সাগর থেকে ফিরলেও আশঙ্কায় দিন কাটছে জহিরুলের

আবদুল আজিজ, মহেশখালী থেকে ফিরে
০৯ জুন ২০১৭, ১৪:৪২আপডেট : ০৯ জুন ২০১৭, ১৪:৪২

জহিরুল ইসলাম ঘূর্ণিঝড় মোরা’র কবলে পড়ে সাগরে ট্রলারসহ নিখোঁজ হয়েছিলেন মহেশখালীর জহিরুল ইসলাম (৩৫)। পরে ভারতের নৌ-বাহিনীর সাহায্যে উদ্ধার হন তিনি। ঝড়ের কবল থেকে বেঁচে ফিরলেও দুই ভাই ও জীবিকা নির্বাহ করে বেঁচে থাকার সম্বল মাছ ধরার ট্রলার হারিয়ে এখন শঙ্কায় দিন কাটচ্ছেন তিনি।
কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার পুটিবিলার দাসীমাঝি পাড়া গ্রামের বাসিন্দা জহির। ঘূর্ণিঝড় মোরার কবলে পড়ে যখন গভীর বঙ্গোপসাগরে তাদের ট্রলারটি বিধ্বস্ত হয়ে যায়। ঝড়ের কবলে পড়ে নিজের জীবন বাজি রেখে মৃত্যুর দুয়ার থেকে পরিবারের মাঝে ফিরে এসেছেন তিনি। সেই বিভীষিকাময় ও দুঃসহ স্মৃতিই যেন এখন তার প্রতিদিনের সঙ্গি।
সেদিনের স্মৃতি মনে করে জহিরুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘২৮ মে উপকূল থেকে টানা দুইদিন ট্রলার চালিয়ে বঙ্গোপসাগরের দক্ষিণ পশ্চিমে ভারতীয় জলসীমানার কাছাকাছি পৌঁছায় বহনকরী ট্রলারটি। হঠাৎ জানতে পারি ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’ আঘাত হানবে। তখনই মাছ ধরা বাদ দিয়ে কোনও কিছু না ভেবে আমরা উপকূলে ফিরে আসতে শুরু করি।কিন্তু বেশি দূর এগোতে পারিনি। মোরার আঘাতে মুহূর্তেই আমাদের ট্রলার ‘এফভি সায়েদ’বিধ্বস্ত হয়ে যায়। এই ট্রলারে মোট আমিসহ মোট ২৫ জন মাঝিমাল্লা ছিল। সবাই পানিতে পড়ে যায়। এসময় কিছুক্ষণ ট্রলার ধরে বাঁচার চেষ্টা করলেও তীব্র ঝড়ে ট্রলারটি বিধ্বস্ত হয়ে যায়। এরপর উপায় না দেখে ট্রলারে থাকা রাবারের তৈরি পানির কন্টেইনার আকড়ে ধরে বাঁচার চেষ্টা করি।
একদিকে তীব্র বাতাস ও ঝড়ো হাওয়ার ধাক্কা সামলে নেওয়ার চেষ্টা, অন্যদিকে সামুদ্রিক মাছ ও নানা প্রজাতির মৎস্য প্রাণীদের কামড় সহ্য করতে হয়েছে। এতে আমার শরীর ক্ষত-বিক্ষত হয়ে যায়।’
সাগর থেকে ফিরলেও আশঙ্কায় দিন কাটছে জহিরুলের তিনি আরও বলেন, ‘ওই দিন ভোর ৫টা থেকে সাগরের অথৈ পানিতে ভাসতে ভাসতে বিকাল, বিকাল থেকে সন্ধ্যা যখন ঘনিয়ে আসছিল তখন সঙ্গে থাকা অন্যান্যদের মধ্যে নেছার মাঝি, মো. জহির, মোক্তার ও মামুন দুর্বল হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। নিজ চোখের সামনে একেক জন পানিতে তলিয়ে গেলেও সহযোগিতা করার উপায় ছিল না। এক পর্যায়ে আমার মনোবল ভেঙে যায়। দীর্ঘ ৩৭ ঘণ্টা গভীর বঙ্গোপসাগরের প্রচণ্ড ঢেউ ও তীব্র বাতাসে যখন প্রাণ যায় যায় অবস্থা, তখন দেখতে পান অদৃশ্য কালো রঙের একটি বড় অংশ তার দিকে ভেসে আসছে। এক পর্যায়ে একটি ছোট বোট তাদের তুলে নিয়ে যখন একটি বড় জাহাজে তোলা হয়, তখন বুঝতে পারি ভারতীয় নৌ-বাহিনী আমাদেরর উদ্ধার করেছে। পরে পর্যায়ক্রমে আরও ১৭ জনকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম উপকূলে বাংলাদেশে নৌ-বাহিনীদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।’
জহির বলেন, ‘ ঝড়ের কবলে পড়ে আপন দুই ভাই ও মাছ ধরার তিনটি ট্রলার নিখোঁজ থাকায় পুরো পরিবার এখন নিঃস্ব। একদিকে দুই ভাইয়ের শোকে গোটা পবিবারে চলছে শোকের মাতম, অন্যদিকে জীবিকা নির্বাহ করে বেঁচে থাকার একমাত্র মাধ্যম ট্রলার গুলোর হদিস না পাওয়ায় আমরা শঙ্কিত।সামনের দিন গুলো পুরো পরিবারকে না খেয়ে থাকতে হবে।’

জহিরুল অভিযোগ করে বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় মোরা আঘাত হানার প্রায় দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও স্থানীয় কোনও জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা এমনকি কারও কোনও ধরনের সহায় এখনও পাইনি। টাকার অভাবে মাছের কামড়ে ক্ষত-বিক্ষত হয়ে যাওয়া শরীরের চিকিৎসা করাতে পারছি না।’
/এআর/

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
যেখানে সকালে বারান্দায় এলেই দেখা মেলে জোড়া রংধনুর
যেখানে সকালে বারান্দায় এলেই দেখা মেলে জোড়া রংধনুর
সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরের আড়ালে কী
সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরের আড়ালে কী
গরমে শিশুর সুরক্ষা: সামান্য ভুলও ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ
গরমে শিশুর সুরক্ষা: সামান্য ভুলও ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ
থানার ভেতরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে পিটিয়ে আহত, ৩ পুলিশ প্রত্যাহার
থানার ভেতরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে পিটিয়ে আহত, ৩ পুলিশ প্রত্যাহার
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম