চিম্বুকের বাতাসে এখন আনারসের ঘ্রাণ

বান্দরবান প্রতিনিধি
১০ জুন ২০১৭, ১০:৩২আপডেট : ১০ জুন ২০১৭, ১০:৪১

 

চিম্বুকের পথে পথে আনারস পাহাড়ি এলাকায় এখন আনারসের ঘ্রাণ। বাজারগুলোতে আসতে শুরু করেছে কাঁচা-পাকা আনারস। বান্দরবানের অন্যতম পর্বত চিম্বুকেও একই চিত্র। পাহাড়ের গা বেয়ে ওঠা সড়কের পাশে চোখ বুলাতেই চোখে পড়বে সারি সারি আনারসের বাগান । রোদ আর বৃষ্টি উপেক্ষা করে রসে ভরা টসটসে এসব আনারসে থুরং ভর্তি করছেন আদিবাসীরা। আর পাইকারারা অপেক্ষায় আছেন কখন এসব আনারস ট্রাকে ভর্তি করে নিয়ে গিয়ে দূরের শহরে বেশি দামে বিক্রি করে লাভবান হবেন।

পার্বত্য এলাকার আনারসের আকারভেদে দামও হয় ভিন্ন। আবহাওয়া আর মাটি অনুকূল থাকায় অন্য দুই পার্বত্য জেলা রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ির চেয়ে বান্দরবানে জায়ান্ট কিউ আনারসের উৎপাদন হয় বেশি। বড় আকারের এক একটি জায়ান্ট কিউ আনারসের ওজন হয়ে থাকে ৫০০ গ্রাম থেকে ১ কেজির মতো। দেখতে কাঁচা হলেও এ ফল খেতে সুস্বাদু। উৎপাদকের কাছ থেকে নিলে দাম হয় ৩৫ থেকে ৪০ টাকা। আর ছোট ও মাঝারি আকারের আনারসের দাম পড়ে ১০ থেকে ২০ টাকা।

বিষমুক্ত হওয়ায় পাহাড়ের আনারসের চাহিদা সমতলে একটু বেশি। মানে ভালো আর দাম কম হওয়ায় এরই মধ্যে ঢাকা, চট্টগ্রাম থেকে পাইকাররা এসে গাড়ি ভর্তি করে নিয়ে যাচ্ছেন জায়ান্ট কিউ আনারস। আবার কেউ কেউ মৌসুমি ফল হিসেবে আনারসের তৃপ্তি মেটানোর জন্য পরিবারের জন্য নিয়ে যাচ্ছেন ব্যাগ ভর্তি করে। চিম্বুকের পথে পথে আনারস

এ বছর জেলা সদরের গ্যাসমনি পাড়া, বেতনি পাড়া, লাইমি পাড়াসহ রুমা ও থানচি উপজেলার পাহাড়ের ঢালুতে আনারসের আবাদ হয়েছে ভালো। বান্দরবান কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক আলতাফ হোসেন বলেন, ‘পার্বত্য এলাকার মাটির অম্লত্ব বেশি হওয়ার কারণে এখানে আনারসের ফলন ভালো হয়। এ বছরের বৃষ্টিপাত আম, লিচুর জন্য ক্ষতিকারক হলেও আনারসের জন্য ভালো হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এ বছর ফলন ভালো হবে বলে আশা করছি।’

বান্দরবান কৃষি বিভাগ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, তিন পার্বত্য জেলায় জায়ান্ট কিউ এবং হানিকুইন নামে দুই প্রজাতির আনারসের ভালো চাষাবাদ হয়। তবে আবহাওয়া অনুকূল থাকায় বান্দরবান পার্বত্য জেলায় জায়ান্ট কিউ আনারসের উৎপাদন হয় বেশি । ২০১৪-১৫ অর্থ বছরে ৪ হাজার ৫৭৫ হেক্টর জমিতে ৭৭ হাজার ৫৭৫ মেট্রিক টন, ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে ৪ হাজার ৮২০ হেক্টর জমিতে ৯০ হাজার ৮২০ মেট্রিক টন এবং ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে ৫ হাজার হেক্টর জমিতে ১ লাখ মেট্রিক টন আনারসের উৎপাদন হয়। চিম্বুকের পথে পথে আনারস

চাষিরা জানান, আনারস চারা রোপণের জন্য প্রথমে জঙ্গল কেটে শুকিয়ে আগুন লাগাতে হয়। এরপর আবর্জনা পরিষ্কার করে পাহাড়ের ঢালে আড়াআড়ি করে লাগানো হয় । আক্টোবর নভেম্বরে চার রোপণ করলে ফেব্রুয়ারি মার্চ মাসে ফুল আসে এবং মে জুন মাস থেকে ফল পাওয়া যায়।

বান্দরবানের গ্যাসমনি পাড়ার চাষি লাল ধন কিম বলেন, ‘পাহাড়ের ঢালু জমিতে এক একর জমিতে ৩০ হাজার গাছ রোপণ করেছি। গত বছর আনারস বিক্রি করে ১ লাখ ২০ হাজার টাকার মতো আয় করেছিলাম। এ বছর ফল বিক্রি করে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকার মতো আয় করতে পারবো বলে আশা করছি।’

জেলার ফারুক পাড়ার আরেক চাষি জে বন বম জানান, ‘এ বছরের ফলন গত বছরের চেয়ে ভালো হয়েছে। পোকামাকড়ের আক্রমণ কম। আনারস বিক্রি করে ফসল ভালো পাচ্ছি।’

লাইমি পাড়ায় চট্টগ্রাম থেকে আসা পাইকার মো. বুলবুল ইসলাম বলেন, ‘এই এলাকার আনারসের চাহিদা বেশি। গড়ে ৪০ টাকা করে ১ হাজার আনারস কিনে নিয়ে যাচ্ছি। প্রতিটি আনারস ৭০ থেকে ৮০ টাকা করে বিক্রি করতে হবে।’

/এফএস/

আরও পড়ুন- 


১২৮ এমপি থেকে বাদ দেওয়ার তালিকা করছে আ.লীগ

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
জয়পুরহাটে বজ্রাঘাতে প্রাণ হারালেন ২ জন
জয়পুরহাটে বজ্রাঘাতে প্রাণ হারালেন ২ জন
শিশু রামিসা হত্যা মামলার যুক্তিতর্ক আজ, জানা যাবে রায়ের তারিখ
শিশু রামিসা হত্যা মামলার যুক্তিতর্ক আজ, জানা যাবে রায়ের তারিখ
যেখানে সকালে বারান্দায় এলেই দেখা মেলে জোড়া রংধনুর
যেখানে সকালে বারান্দায় এলেই দেখা মেলে জোড়া রংধনুর
সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরের আড়ালে কী
সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরের আড়ালে কী
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম