ঘূর্ণিঝড় মোরার রেশ কাটতে না কাটতেই বঙ্গোপসাগরে মৌসুমী নিম্নচাপের প্রভাবে বন্দর নগরী চট্টগ্রামে ফের জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। নিম্নচাপের প্রভাবে ভারি বর্ষণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। রবিবার রাত ১০টা থেকে বৃষ্টি শুরু হয়। সোমবার দুপুর পর্যন্ত থেমে থেমে বর্ষণ হয়েছে। এতে নগরীর নিম্নাঞ্চলে ফের জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন অফিসগামী মানুষ।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সোমবারের বৃষ্টিতে নগরীর আগ্রাবাদের সিডিএ আবাসিক এলাকা, হালিশহর, গোসাইলডাঙ্গা ওয়ার্ডের বেপারি পাড়া, হাজিপাড়া, কুসুমবাগ আবাসিক এলাকা, বন্দর কলোনি, ছোটপুল, মুরাদপুর, ষোলশহর দুই নম্বর গেইট, বাকলিয়া এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। এসব এলাকায় হাঁটু পরিমাণ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।
হালিশহর এলাকার বাসিন্দা হুমায়ুন কবির বলেন, ‘টানা বৃষ্টিতে ওই এলাকার রাস্তা-ঘাটে হাঁটু পরিমাণ পানি জমে গেছে। জলাবদ্ধতার কারণে ওই এলাকার বাসিন্দারা ঘর থেকে বের হতে পারছেন না।’
একই অভিযোগ নগরীর মুরাদপুর এলাকার পোশাক শ্রমিক আরিফুল ইসলাম। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বৃষ্টি ষোলশহর দুই নম্বর গেইট এলাকায় হাঁটু পরিমাণ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘক্ষণ পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থেকে সড়কে যানবাহন পাওয়া যাচ্ছে না।’
টানা বর্ষণের কারণে নগরীতে সীমিত আকারে যান চলাচল করছে। প্রাইভেট কারসহ অধিকাংশ গাড়ি হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করছে। প্রয়োজন ছাড়া কেউ বাসা-বাড়ি থেকে বের হচ্ছে না। ফলে রাস্তায় লোকজনের সমাগমও কম।
চট্টগ্রাম আবহাওয়া অফিসের ডিউটি অফিসার মাহমুদুল আলম বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, সকাল ৯টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় ১৫১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
তিনি জানান, ‘বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট মৌসুমী নিম্নচাপের প্রভাবে এ বৃষ্টিপাত হচ্ছে। বিকাল নাগাদ এভাবে বৃষ্টি অব্যাহত থাকবে।’
প্রসঙ্গত, এর আগে ২ জুন বঙ্গোপসাগরে ঘুর্ণিঝড় মোরার প্রভাবে তিন-চার দিন টানা বৃষ্টিপাত হয়। এতে ওই সময় আগ্রাবাদ সিডিএ আবাসিক এলাকা, হালিশহর, গোসাইলডাঙ্গাসহ নগরীর নিম্নাঞ্চল কোমর পরিমাণ পানিতে নিমজ্জিত হয়। তখন চার-পাঁচ দিন এসব এলাকার মানুষ পানিবন্দি ছিল।
/এসটি/








