প্রবল ও মাঝারি বর্ষণের কারণে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলায় পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে রয়েছে ৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। পাহাড় চূড়ায় অবস্থিত বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ৩টি বিদ্যালয়ে ইতোমধ্যে অনির্দিষ্টকালের জন্য পাঠদান বন্ধ ঘোষণা করেছে উপজেলা প্রশাসন। দীঘিনালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শেখ শহিদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, উপজেলা শিক্ষা কমিটি সভায় উপজেলার ৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে সংশ্লিষ্ট দফতরে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।বিদ্যালয়গুলোর অধিকাংশই নির্মাণ ত্রুটির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
৯টি ঝুঁকিপূর্ণ স্কুলের নামগুলো হলো- কড়ইতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কিনারামপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উল্টাছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হেংগুত্যাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নেত্রজাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পূর্ব বাছা মেরং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পাগলা মহাজনপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পূর্ব চন্দ্র কার্বারীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও চোংড়াছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
এছাড়া অনির্দিষ্টকালের জন্য পাঠদান বন্ধ ঘোষণা হওয়া বিদ্যালয়গুলো হলো- দীঘিনালা ক্ষেত্রপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মায়াফা পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও চমড়াছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
সরেজমিনে মায়াফা পাড়া এলাকা গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের ভবনের কয়েক ফুট পাশ থেকে পাহাড় ধসে নিচে পড়ে গেছে। ভবনের প্রতিটি পিলারই বিধ্বস্ত। এতে করে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে বিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন। এদিকে গত কয়েকদিন প্রবল বর্ষণ অব্যাহত থাকায় বিদ্যালয় ভবনের নিচের অংশের মাটি সরতে শুরু হওয়ায় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রশাসনের নির্দেশে বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করে।
মায়াফাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক টিপলু বড়ুয়া জানান, মায়াফা পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী সংখ্যা ১০৫ জন, এর মধ্যে পিএসসি পরীক্ষার্থী ১৪ জন। চমড়াছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী সংখ্যা ৮২ জন, এরমধ্যে পিএসসি পরীক্ষার্থী ১৯ জন।
মায়াফা পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পিএসসি পরীক্ষার্থী ধন্য চরণ ত্রিপুরা জানান, বৃষ্টি পড়ায় মঙ্গলবার বিদ্যালয় ছুটি দিয়ে দেন স্যাররা। কিন্তু আজ বাসা থেকে জোর করে স্কুলে পাঠানো হয়েছে।
স্কুলের সামনে বসে থাকা দ্বিতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী জোবালি ত্রিপুরা, নাইলাটি ত্রিপুরা, নিমান চাকমা জানে না তাদের বিদ্যালয়ে ক্লাস হবে না। প্রতিদিনের মতো বিদ্যালয়ে এসে হাজির হয়েছে তারা।
তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী তুরান ত্রিপুরার বাবা তজেন্দ্র ত্রিপুরা জানান, পাহাড় ধসের ঝুঁকি থাকায় গত মঙ্গলবার থেকে বিদ্যালয় ছুটি ঘোষণা করে শিক্ষকরা। বিদ্যালয়ে ওঠার রাস্তা কাঁদাময় হওয়ায় ছেলেমেয়েরা উঠতে অসুবিধা হচ্ছে। তার ওপর পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে তারা শঙ্কিত।
মায়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক টিপলু বড়ুয়া জানান, পাহাড় ধসের ঝুঁকি থাকায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে গত মঙ্গলবার থেকে বিদ্যালয়ে পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে।
পাহাড় ধসের ঝুঁকি থাকায় পার্বত্য জেলা পরিষদ গত ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বিদ্যালয়ের নিচে একটি ধারক দেয়াল নির্মাণ করে দেয়। কিন্তু গত কয়েকদিনের বর্ষণে বিদ্যালয়ের নিচের অংশের মাটি সরে যেতে শুরু করেছে। এতে করে পাহাড় ধসের ঝুঁকি দেখা দিয়েছে।
চমড়াছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তন্ময়া চাকমা জানান, পাহাড় ধসের ঝুঁকি থাকায় গত মঙ্গলবার থেকে প্রশাসনকে জানিয়ে বিদ্যালয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য পাঠদান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শেখ শহিদুল ইসলাম জানান, প্রবল ও মাঝারি বর্ষণে পাহাড় ধসের ঝুঁকি থাকায় গত মঙ্গলবার উপজেলা দুইটি বিদ্যালয় ও বুধবার আরেকটি বিদ্যালয়সহ তিনটি বিদ্যালয়ে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার সময় পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে।
/এআর/








