রাঙামাটিতে পাহাড় ধসের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সঠিকভাবে পুনর্বাসন না করা পর্যন্ত আশ্রয়কেন্দ্র খোলা থাকবে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন। সরকারি সহায়তা অপ্রতুল হলেও মানুষের সহায়তার যে টাকা রয়েছে তা দিয়ে আশ্রয়কেন্দ্র চালানো হবে। বৃহস্পতিবার রাঙামাটির ডিসি মো. মানজারুল মান্নান এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, ‘যদি ২০ জন মানুষও থাকে আমরা তাদের নিয়েই আশ্রয়কেন্দ্র চালিয়ে যাবো। দরকার হলে ছয় মাস চলবে।’
পাহাড় ধসের পর একমাসে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে ডিসি এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আশ্রয়কেন্দ্রগুলো কেন্দ্রীভূত করতে চাই। আশ্রয়কেন্দ্রগুলো সরকারি ভবন ও বিভিন্ন বিদ্যালয়ে হওয়ার কারনে ওই সব প্রতিষ্ঠানের কর্মকাণ্ড ব্যাহত হচ্ছে এবং আশ্রয়কেন্দ্রগুলো বিভিন্ন যায়গায় ছড়িয়েছিটিয়ে থাকার কারণে আমরাদেরও তাদের সেবা প্রদানে কিছুটা ঝামেলা হচ্ছে। আমরা যদি স্টেডিয়াম এলাকাটিকে কেন্দ্র করে আশ্রয়কেন্দ্রগুলো নিয়ে আসতে পারি তাহলে আমাদেরও সুবিধাগুলো দেওয়া সম্ভব হবে।’
ডিসি আরও বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য টেকসই একটা পুনর্বাসন প্রয়োজন। এই পুনর্বাসন করার জন্য তাড়াহুড়ো না করে বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়ে এই জায়গাগুলো জরিপ ও পরিদর্শন করে একটি টেকসই ব্যবস্থা যাতে নেওয়া হয়। ভবিষ্যতে যাতে আর কোনও পাহাড় ধসের ঘটনায় কোনও মৃত দেহ আমাদের দেখতে না হয়। আগামী সপ্তাহে জেলা প্রশাসন থেকে একটি কমিটি করা হবে।এই কমিটির কাজ হলো প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি নিরূপন করা। এরপর আমরা পুনর্বাসন প্রক্রিয়া শুরু করতে পারবো।’
জেলা প্রশাসন থেকে জানানো হয়, পাহাড় ধসের ঘটনায় সরকারের পক্ষ থেকে ১ কোটি ৬৫ লাখ টাকা, ৬০০ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য, ১০০ তাবু, তিস হাজার পিস কম্বল, ১০০০ পেকেট শুকনো খাবার, ৬০০ বান্ডেল টিন পাওয়া গেছে।
উল্লেখ্য, গত ১২ জুন প্রবল বর্ষণের পর রাঙামাটিতে পাহাড় ধসে ১২০ জনের প্রাণহানী ও দুই শাতাধিক লোক আহত হয়। ক্ষতিগ্রস্ত হয় প্রায় ১২০০ পরিবার। জেলার ১৭টি আশ্রয় কেন্দ্রে এখন দুই হাজারও বেশি লোক আবস্থান করছেন।
/এফএস/
আরও পড়ুন- পাহাড় ধস: আশ্রয়কেন্দ্রের মানুষ বাড়ি ফিরতে শুরু করেছে








