বিশ্বের নানা দেশের নানা সংস্থার প্রতিনিধিদল রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনের পরও দুরবস্থার কোনও সুরাহা না হওয়ায় হতাশ রোহিঙ্গারা। তাদের নিজের দেশে ফেরত পাঠানো বা মিয়ানমারে তাদের ওপর নির্যাতনের জন্য দায়ীদের বিচারের বিষয়ে কোনও অগ্রগতি না হওয়ায় এই প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তারা। সর্বশেষ ওআইসি’র মহাসচিবের কাছেও নিজেদের হতাশার কথা বলেছেন রোহিঙ্গারা।
জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থাসহ দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংগঠনের প্রতিনিধিরা বিভিন্ন সময়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন। সর্বশেষ পরিদর্শনে আসেন অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কনফারেন্সের (ওআইসি) মহাসচিব ইউসেফ বিন আহমাদ আল-অথাইমিন। তবে গুরুত্বপূর্ণ লোকদের এসব ক্যাম্প পরিদর্শনের পরও ভাগ্য ফেরেনি মিয়ানমারের নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের। কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সরেজমিনে গেলে বাংলা ট্রিবিউনের কাছে এই হতাশার কথা জানান রোহিঙ্গাদের অনেকেই।
রোহিঙ্গারা বলছেন, গত বছরের ৯ অক্টোরের পর থেকে মিয়ানমার সরকারের হাতে নির্যাতিত হয়ে যে সব রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসে আশ্রয় নিয়েছেন তাদের দেখতে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ঘুরে গেছেন বিশ্বের বড় বড় নেতারা। জাতিসংঘের একাধিক টিম, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য, কফি আনান কমিশন, আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থার সদস্যসহ বিশ্বের মানবাধিকার সংস্থার একাধিক প্রতিনিধিদল ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন। এতে রোহিঙ্গাদের মধ্যে কিছুটা হলেও স্বস্থি ফিরে আসছিলো। কিন্তু দিন গেলেও এসব সংস্থা এখন পর্যন্ত চোখে পড়ার মতো তেমন কিছু করতে পারেনি বলে জানান ক্যাম্পে বসবাসরত রোহিঙ্গারা।
উখিয়ার কুতুপালং নিবন্ধিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বসবাসকারী মোহাম্মদ ইউনুচ আরমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা খুবই হতাশ। সেই হতাশার কথায় জানিয়েছি ওআইসি মহাসচিবকে। আমরা বলেছি, বিশ্বের অনেকেই আমাদের দেখতে এসেছেন। আমাদের কথা শুনেছেন। এজন্য আমরা কৃতজ্ঞ। কিন্তু পরিদর্শনে এসে প্রতিনিধিদল আমাদের যে আশ্বাস দেন, বাস্তবতার সঙ্গে তার মিল নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘ওআইসির মহাসচিব ইউসেফ বিন আহমাদ আল-অথাইমিনকে আমাদের হতাশার কথা জানিয়েছি। তিনি আমাদের ধৈর্য ধরার পরামর্শ দিয়েছেন।’
ওআইসি’র মহাসচিব ক্যাম্প পরিদর্শনে এসে যে কয়জন রোহিঙ্গার সঙ্গে কথা বলেছেন এরমধ্যে জামালিদা বেগম একজন। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মিয়ানমারের সেনাবাহিনী আমার ওপর যে ভয়াবহ নির্যাতন চালিয়েছে আমি সব কিছু ওআইসি’র মহাসচিবকে খুলে বলেছি। তিনি আমাকে আশ্বস্ত করেছেন এই বিষয়ে আন্তর্জাতিকভাবে মিয়ানমারে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাবে।’
ওআইসি’র মহাসচিব কথা বলেছেন উখিয়ার কুতুপালং অনিবন্ধিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পের রোহিঙ্গা যুবক মোহাম্মদ সিরাজের সঙ্গে। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন, ওআইসি’র মহাসচিব তার কাছ থেকে রোহিঙ্গাদের দাবি দাওয়ার কথা জানতে চেয়েছেন। ‘আমরা ওআইসির মহাসচিবকে বলেছি, জাতিসংঘ ও বিশ্বের দাতা সংস্থাগুলো চাইলে একটি সুষ্টু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে আমাদের মিয়ানমারে ফেরত যেতে সাহায্য করতে পারে। তাই আমাদের জন্মভূমিতে ফেরত যাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করে দিন। তিনি আমাদের ধৈর্য ধরার পরামর্শ দেন।’
একই ক্যাম্পে অবস্থানকারী রোহিঙ্গা যুবক মোহাম্মদ নুর মিয়ানমারে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, ‘ওআইসি’র মহাসচিবকে আমি সব কিছু খুলে বলেছি। মহাসচিব আমাদের বলেছেন, মিয়ানমারের নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের সব কথা আমরা অনেক আগেই জেনেছি। তিনি রোহিঙ্গাদের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।’
উল্লেখ্য, ‘ওআইসি’র মহাসচিব ইউসেফ বিন আহমাদ আল-অথাইমিন শুক্রবার (৪ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে আসেন। এসময় মিয়ানমার সরকারের নির্যাতনের শিকার রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের ভয়াবহ নির্যাতনের কথা শোনেন। এর আগে চারদিনের সফরে মহাসচিব ঢাকায় আসেন। নভেম্বরে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটাই তার প্রথম ঢাকা সফর। ঢাকায় তিনি রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেছেন।
/এফএস/
আরও পড়ুন- রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে ওআইসি মহাসচিব








