বান্দরবানে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও ঠিকাদার রাজু বড়ুয়ার বিরুদ্ধে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) রোয়াংছড়ি উপজেলার সহকারী প্রকৌশলী সাজেদুল ইসলামকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। বুধবার দুপুরে স্থানীয় এলজিইডি’র সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী নাজমুন সাজ্জাত মো. জিল্লুর রহমানের রুমে এ ঘটনা ঘটে। ঠিকাদার রাজু বড়ুয়া স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও আওয়ামী লীগের জাতীয় সংগঠন ‘বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলার’ বান্দরবান জেলা শাখার সভাপতি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বান্দরবান কালাঘাটার তারাছা ইউনিয়নের নতুন সড়কে ২কোটি ৩৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ব্রিজ নির্মাণের কাজ করছে ঠিকাদার এস অনন্ত কিশোর ত্রিপুরা। এ কাজটির রানিং বিলের জন্য বারবার তাগাদা দেয় ঠিকাদার রাজু বড়ুয়া। এ নিয়ে আগেও কয়েকবার ঠিকাদারের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয় উপ সহকারী এই প্রকৌশলীর। অন্যদিনের মত আজও আগের মতো বান্দরবান এলজিইডি জেলা অফিসে সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী নাজমুন সাজ্জাত মো. জিল্লুর রহমানের কক্ষে বসে থাকা সাজেদুল ইসলামের কাছে বিল চাইতে গেলে ঠিকাদারের সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়। যা একপর্যায়ে মারামারিতে রূপ নেয়।
এ বিষয়ে ঠিকাদার রাজু বড়ুয়া বলেন, ‘রোয়াংছড়ি উপজেলার সহকারী প্রকৌশলী সাজেদুল ইসলাম আগেও আমার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেছে। বিভিন্ন সময়ে হুমকিও প্রদান করেছে। আজও আমার সঙ্গে অযথা গালিগালাজ করলে একটু কথা কাটাকাটি হয়। তবে মারধরের কোনও ঘটনা ঘটেনি।’
রোয়াংছড়ি উপজেলার সহকারী প্রকৌশলী সাজেদুল ইসলাম বলেন, ‘তারাছা ইউনিয়নের নতুন সড়কে ঠিকাদার রাজু বড়ুয়ার কোনও কাজ নেই। তারপরও সে বারবার আমাকে কাজের বিল দেওয়ার জন্য তাগাদা দেয়। আজও সে আমার কাছে এসে বারবার কাজের বিল দেয়ার জন্য তাগাদা দেয়। আমি ঠিকাদারকে বিল দেবো বলে জানালে সে আমার উপর চড়াও হয় এবং মারধর করে।’
ঘটনাস্থলে উপস্থিত সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী নাজমুন সাজ্জাত মো. জিল্লুর রহমান বলেন, ‘ঘটনাটি আমার কক্ষে ঘটেছে। রোয়াংছড়ি উপজেলার সহকারী প্রকৌশলী সাজেদুল ইসলাম আমার রুমে বসেছিল। হঠাৎ ঠিকাদার রাজু আমার রুমে প্রবেশ করে রোয়াংছড়ি উপজেলার সহকারী প্রকৌশলী সাজেদুল ইসলামকে বিল দিতে বলে। এ নিয়ে দু’জনই তর্কে লিপ্ত হয়। পরে সামান্য হাতাহাতিও হয়।’
বান্দরবান এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী মোহন চাকমা বলেন, ‘আমি বিষয়টি দেখিনি, শুনেছি। ঘটনা যাই ঘটুক না কেন আমি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব। আমরা ঠিকাদারের সুবিধার্থে মাঝে মধ্যে আর্থিক সহযোগিতা করে থাকি। তবে এ কাজটি যেহেতু ঠিকাদার রাজু বড়ুয়ার নয়, সেহেতু সে কেন বিলের জন্য তাগাদা দিচ্ছিল তা খতিয়ে দেখা হবে।’








