বিএনপিকে শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবেই মোকাবিলা করা হবে বলে জানিয়েছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘বিএনপির কিছু নেতাকর্মী এখন বসে বসে শুধু নালিশ করে আর প্রেস ব্রিফিংয়ে কান্নাকাটি করে। কিন্তু সাম্প্রদায়িক শক্তি শেষ পর্যন্ত ধানের শীষেই ভোট দেবে। তাই শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবেই আমরা বিএনপিকে মোকাবিলা করবো।’
সোমবার (৬ নভেম্বর) দুপুরে কক্সবাজার পাবলিক লাইব্রেরি মাঠে আয়োজিত আওয়ামী লীগের সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন।
দলে তরুণদের স্বাগত জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘প্রথম ভোটার মানে ১৮ বছর বয়সী তরুণ। নতুন ভোটার হবে তরুণরা। কক্সবাজারে অনেক নারীও সদস্য হতে এসেছেন। তাদের দলে স্বাগত জানাই।’
অপরাধীদের দিয়ে দল ভারি করার প্রয়োজন নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘চিহ্নিত কোনও চাঁদাবাজ আওয়ামী লীগের সদস্য হতে পারবে না। চিহ্নিত কোনও সন্ত্রাসী আওয়ামী লীগের সদস্য হতে পারবে না। চিহ্নিত কোনও ভূমি দখলকারী আওয়ামী লীগের হতে পারবে না। চিহ্নিত কোনও স্বাধীনতাবিরোধী, সাম্প্রদায়িক অপশক্তি আওয়ামী লীগের সদস্য হতে পারবে না। আমাদের খারাপ লোকদের দরকার নেই। ভালো লোক অনেক আছে। আমরা ভালো কাজ করলে ভালো লোকেরাই আসবে, ভালো লোকের অভাব হবে না।’
বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণকে ইউনেস্কোর ‘মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ডে’র স্বীকৃতি দেওয়ার প্রসঙ্গ টেনে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘৭ মার্চের ভাষণ এতদিন ছিল বাঙালি জাতির ইতিহাস। কিন্তু এখন ইউনেস্কো বিশ্বের ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে এই ভাষণকে। আব্রাহাম লিংকনের হেটিস বার্ক ভাষণটি বিশ্বজুড়ে বিখ্যাত। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণটি লিখিত ছিল না। বঙ্গবন্ধুর ১৭ মিনিটের অলিখিত এই ভাষণটি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ একটি ভাষণ।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাঙালি জাতির হাজার বছরের পরাধীনতা, অপমান ও রক্তের প্রতিশোধ নিয়ে বিশ্ব মানচিত্রে বাংলাদেশের মানচিত্র এঁকে দেওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তার জন্ম হয়েছিল বলেই বাংলাদেশ আজ স্বাধীন। বাংলাদেশের ইতিহাস থেকে তাই কোনোদিন তার নাম মুছে ফেলা যাবে না।’
কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সিরাজুল মোস্তফার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক শামীমসহ দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা।
অনুষ্ঠানে কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান ও কক্সবাজার জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোস্তাক আহমেদ চৌধুরীসহ অনেকেই আওয়ামী লীগের সদস্যপদ নবায়ন করেন এবং অনেকেই নতুন সদস্য হন।








