কক্সবাজারের উখিয়ার উপকুলীয় এলাকা ইনানী থেকে ৬৮ রোহিঙ্গা নারী, পুরুষ ও শিশুকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যরা। মঙ্গলবার (৭ নভেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে সাগর পাড়ি দিয়ে নতুন করে এসব রোহিঙ্গা উখিয়া উপজেলার জালিয়াপালং ইউনিয়নের ইনানী এলাকায় পৌঁছে।
খবর পেয়ে বিজিবির সদস্যরা তাদের আটক করে। তাদেরকে বিকালে ইউএনএইচসিআর এর মাধ্যমে উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাঠানো হয়েছে।
কক্সবাজার ৩৪ বিজিবির উপ-অধিনায়ক মেজর মো. ইকবাল আহমেদ বলেন, ‘প্রায় সময়ই বিচ্ছিন্নভাবে রোহিঙ্গারা আসছে। মঙ্গলবারও নৌকায় করে উখিয়ার জালিয়াপালং হয়ে ৬৮ জন রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করে। পরে তাদেরকে ইউএনএইচসিআর এর মাধ্যমে কুতুপালং ক্যাম্পে পাঠানো হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘রবিবার সকাল থেকে খবর পাচ্ছিলাম ওপার থেকে বেশ কয়েক হাজার রোহিঙ্গার একটি দল বাংলাদেশ অভিমুখে রওনা দিয়েছে। আবার শুনলাম তারা নাকি মিয়ানমারের কাঁটাতারের বেড়ায় আটকা পড়েছে। আজও (মঙ্গলবার) এমনটি জেনেছি।’
তিনি বলেন, বাংলাদেশ যেহেতু একবার মানবিকতা দেখিয়েছে তাই কেউ সীমান্ত অতিক্রম করলে নিয়মানুসারে তাকে ক্যাম্পে নেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশ সীমান্তে কাউকে পাওয়া গেলে তাকেই মানবিক সহায়তা দেওয়া হয়। বিজিবির পাশাপাশি সীমান্তে আন্তর্জাতিক এনজিও এবং স্থানীয় এনজিওর প্রতিনিধিরা এসব রোহিঙ্গাদের সহযোগিতা দেয়।
এদিকে, অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে প্রায় ৩০ হাজার এবং গত শুক্রবার (৩ নভেম্বর) প্রায় পাঁচ হাজার রোহিঙ্গা নতুন করে বাংলাদেশে আশ্রয় পাওয়ায় এবং আরও আসছে জেনে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সীমান্ত ইউনিয়ন পালংখালী ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান নুরুল আবছার চৌধুরী।
তিনি বলেন, ‘পুরনো এবং নতুন মিলিয়ে ১০ লাখ রোহিঙ্গা ইতোমধ্যে বাংলাদেশে আশ্রয় পেয়েছে। এ সংখ্যা সীমান্ত উপজেলা টেকনাফ-উখিয়ার স্থানীয় জনগণের চেয়ে বেশি। এখানে আশ্রয় পাওয়া রোহিঙ্গাদের খাবার, বাসস্থান, স্বাস্থ্য ও স্যানিটেশনসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য সুবিধা নিশ্চিত করতে হিমশিম খাচ্ছি আমরা।’
তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের কারণে পাহাড়গুলো দখল হয়ে গেছে। সাবাড় হচ্ছে গাছপালা। অভয়ারণ্য হারাচ্ছে বন্যপ্রাণী। ফলে হাতিরপালের আক্রমণে মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ হচ্ছে। এসব মৃত্যু সরকারের জন্য বিব্রতকর। এ ছাড়াও রোহিঙ্গাদের সঙ্গে আগ্নেয়াস্ত্র ও মাদক এবং নিষিদ্ধ বস্তু আসছে। ইতোমধ্যে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে অনেক রোহিঙ্গা অস্ত্র, বোমা ও ইয়াবাসহ আটক হয়েছে। মানবিকতার সুযোগে তারা আমাদের আর্থসামাজিক পরিবেশ বিষিয়ে তুলছে।’
প্রসঙ্গত, আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)’র তথ্য মতে গত ২৫ আগস্ট থেকে ৫ নভেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশে নতুন রোহিঙ্গা এসেছে ছয় লাখ ৯ হাজার। কিন্তু স্থানীয় দায়িত্বশীলদের মতে এ সংখ্যা আট লাখ ছাড়িয়ে যাবে।
আরও পড়ুন:
নিরাপত্তা পরিষদের চাপে রোহিঙ্গা সংকট সমাধান হবে না: মিয়ানমার








