চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এ কে এম ফজলুল্লাহ বলেছেন, ‘২৯ বছর ধরে নগরবাসী নিরাপদ সুপেয় পানির সংকটে ভুগেছে। জনগণকে কখনও রাত জেগে কখনও লাইন ধরে প্রয়োজনীয় পানি সংগ্রহ করতে হয়েছে। গত ১২ মার্চ শেখ হাসিনা পানি শোধনাগার প্রকল্প চালু হওয়ার পর এই সংকট দূর হয়েছে। প্রকল্পটির মাধ্যমে দৈনিক গড়ে ১৪ কোটি লিটার করে পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। ২০৪১ সাল নাগাদ চট্টগ্রামে কোনও পানির সংকট থাকবে না।’
মঙ্গলবার (১৪ নভেম্বর) চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। সেবা মাস উপলক্ষে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে চট্টগ্রাম ওয়াসা। ১২ নভেম্বর থেকে ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত চট্টগ্রাম ওয়াসা সেবা মাস পালন করছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
এ কে এম ফজলুল্লাহ বলেন, ‘পানি সংকট নিরসনে বর্তমানে চিটাগং ওয়াটার সাপ্লাই ইমপ্রুভমেন্ট অ্যান্ড স্যানিটেশন প্রকল্প, কর্ণফুলী পানি সরবরাহ প্রকল্প ও ভাওলজুড়ি পানি সরবরাহ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। আরও কিছু প্রকল্পের বাস্তবায়ন করতে হবে।’
নগরবাসীর পানির চাহিদা মেটাতে কর্ণফুলী নদীকে রক্ষা করতে হবে উল্লেখ করে ওয়াসার এই কর্মকর্তা বলেন, ‘নগরবাসীর পানির চাহিদা পূরণে চট্টগ্রাম ওয়াসাকে কর্ণফুলী নদীর ওপর নির্ভর করতে হয়। তাই এ নদী যদি দূষণ ও দখলে নষ্ট হয়ে যায় চট্টগ্রামবাসীকে চরম দুর্ভোগে পড়তে হবে।’
এ কে এম ফজলুল্লাহ আরও বলেন, ‘গ্রাহক সেবা মাসে নিয়মিত কার্যক্রমের বাইরে গভীর নলকূপের লাইসেন্স এবং নবায়ন কার্যক্রম ওয়ান স্টপ সার্ভিসের মাধ্যমে তৎক্ষণাৎ সম্পন্ন করা হবে। গভীর নলকূপের লাইসেন্সের জন্য আবেদন করলে আগের গভীর নলকূপ স্থাপনের তারিখ পর্যালোচনা না করেই হালনাগাদ তারিখ থেকে লাইসেন্স দেওয়া হবে। গ্রাহকরা পানির সংযোগের জন্য আবেদন করলে দ্রুত সংযোগ দেওয়া ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়া গ্রাহকরা সেবা মাসে তাদের বকেয়া ডাউনপেমেন্ট এবং কিস্তির মাধ্যমে পরিশোধ করার সুযোগ পাবেন।’
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে ওয়াসার বোর্ড সদস্য বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) যুগ্ম মহাসচিব তপন চক্রবর্তী, নারী কাউন্সিলর আবিদা আজাদ, সোলায়মান আলম শেঠ, ওয়াসার উপ ব্যবস্থাপনা পরিচালক (প্রশাসন) গোলাম হোসেন, উপ ব্যবস্থাপনা পরিচালক (অর্থ) বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য খোকন, উপ ব্যবস্থাপনা পরিচালক (প্রকৌশল) রতন কুমার সরকার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।







