পাঁচ শতাধিক যাত্রী নিয়ে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা বরিশালগামী যাত্রীবাহী লঞ্চ গ্রিন লাইন-২ বিকল হয়ে মেঘনায় আটকা পড়েছে। শুক্রবার (১ ডিসেম্বর) সকাল ৮টায় ছেড়ে আসা লঞ্চটি দুপুর সাড়ে ১২টায় বিকল হয়ে যায়। দীর্ঘ সময়েও যাত্রীদের উদ্ধার না করায় আতঙ্কে রয়েছেন। ইতিমধ্যেই লঞ্চে খাবার সংকট দেখা দিয়েছে।
লঞ্চে থাকা বরিশালগামী যাত্রী সাংবাদিক গাজী আনোয়ারুল হক জানান, সদরঘাট থেকে ৫৬৮ জন যাত্রী নিয়ে সকালে লঞ্চটি বরিশালের উদ্দেশে ছেড়ে আসে। কিন্তু মুন্সীগঞ্জ আসার পরই লঞ্চের একটি ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। এরপর আরেকটি মেশিন দিয়ে আস্তে আস্তে লঞ্চটি চলতে থাকে। কিন্তু দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে চাঁদপুরের হরিণা এলাকায় পৌঁছানোর পর ওই ইঞ্জিনটিও বিকল হয়ে যায়। এরপর অন্য একটি ট্রলারের সহযোগিতায় লঞ্চটি একটি চরের কাছে নিয়ে ভিড়িয়ে রাখা হয়।
তিনি জানান, এ লঞ্চে ভারতের ১৮ জন এবং ফ্রান্সের পাঁচ পর্যটক রয়েছেন।
যাত্রীরা জানান, চালক তাদেরকে আশ্বাস দিয়ে বলেছেন, ‘আমি মালিকপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। বরিশাল থেকে লঞ্চ এসে আপনাদের গন্তব্যে পৌঁছে দেবে।’ কিন্তু সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্তও কোনও লঞ্চ আসেনি। এমনকি দুর্ঘটনা কবলিত লঞ্চের যাত্রীদের খোঁজও নেয়নি কেউ।
কয়েকজন যাত্রী জানান, ইতিমধ্যে লঞ্চে খাবার সংকট দেখা দিয়েছে। অনেকেই সকালে নাস্তার পর দুপুর-সন্ধ্যায় কিছুই খেতে পারেননি। ছোট ছোট বাচ্চাদের নিয়েও বিপাকে আছেন অনেকে।
যাত্রীরা বলছেন, ঢাকা থেকে বরিশালগামী যে লঞ্চ ছাড়বে সেটিতেই হয়তো যাত্রীদের উঠিয়ে দেবে তারা। কিন্তু ঢাকা থেকে রাত ১০টার আগে এখানে কোনও লঞ্চ আসবে না। ফলে ডাকাতের ভয়ও পাচ্ছেন যাত্রীরা।
এদিকে গ্রিন লাইন-২ লঞ্চের মাস্টার ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘সকাল ৮টায় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসার পর বেলা ১টা ২০ মিনিটের দিকে লঞ্চটি আনকন্ট্রোল হয়ে গিয়ে চরের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এ সময় ইঞ্জিনের গতি কমিয়ে দেই। তখন আমি পেছনে এসে দেখি বাম পাশের রাডারটা নেই। এরপর লঞ্চ অ্যাঙ্কর করে রেখেছি। মালিক ও ম্যানেজারের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা লঞ্চ পাঠাচ্ছে, তবে এখনও লঞ্চ আসেনি।’
তিনি বলেন, ‘প্রতিনিয়তই যোগাযোগ করছি। তবে লঞ্চ কখন আসবে তা নিশ্চিত করে বলতে পারছি না।’
তিনি জানান, পৌনে ২টার দিকে বরিশাল পৌঁছানোর কথা ছিল। কিন্তু তা না হওয়ায় ইতিমধ্যেই ৪০-৫০ জন যাত্রী স্পিডবোট ও ট্রলারে করে চলে গেছে।
লঞ্চের মালিক আলাউদ্দিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘অন্য লঞ্চ যোগাড় করতে সময় লেগেছে। এখন লঞ্চের যাত্রীদের খাবার দেওয়া হচ্ছে। আশা করছি, আধা ঘণ্টার মধ্যে তিনটি ছোট লঞ্চ দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছে যাবে। যাত্রীদের উদ্ধার করে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া হবে।’
সন্ধ্যায় চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক আব্দুস সবুর মণ্ডল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বিষয়টি জানতাম না। আমি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি।’








