চট্টগ্রাম নগরীর ডবলমুরিং থানাধীন বেপারি পাড়ায় একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে ইয়াবা তৈরির মেশিন ও উপকরণসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে নগর গোয়েন্দা পুলিশ। মঙ্গলবার (২৬ ডিসেম্বর) রাতে ওই এলাকার আবুল হোসেন সওদাগরের মালিকাধীন পাঁচ তলা ভবনের তৃতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। তাদের কাছ থেকে আড়াই লাখ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ইয়াবা তৈরি দুটি মেশিন, চারটি ইয়াবা তৈরির স্টিলের ডাইসসহ বিপুল পরিমাণ ইয়াবা তৈরির কাঁচামাল উদ্ধার করা হয়।
নগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ কমিশনার হাসান মোহাম্মদ শওকত আলী এ তথ্য জানান। বুধবার (২৭ ডিসেম্বর) দুপুর ২টায় সিএমটি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।
এদিকে, এই চারজনকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছেন আদালত। বুধবার (২৭ ডিসেম্বর) চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম মো. সফি উদ্দিন এ আদেশ দেন। নগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার এএএম হুমায়ুন কবির এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০দিন রিমান্ডের আবেদন করেছিলাম। শুনানি শেষে আদালত শ্যামল মজুমদারসহ তিন পুরুষ আসামিকে তিন দিন করে এবং অপর আসামি আয়শা সিদ্দিকাকে দুই দিন পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছেন।’
নগর গোয়েন্দা পুলিশের উপকমিশনার হাসান মোহাম্মদ শওকত আলী বলেন, ‘গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে দীর্ঘদিন পর্যবেক্ষণের পর মঙ্গলবার রাতে অতিরিক্ত উপকমিশনার এ এ এম হুমায়ুন কবিরের নেতৃত্বে ওই বাসায় অভিযান চালায় নগর গোয়েন্দা পুলিশ। অভিযানে পুলিশ ওই বাসা থেকে দুটি ইয়াবা তৈরি মেশিন ও বিপুল পরিমাণ কাঁচামালসহ চারজনকে গ্রেফতার করে।’
গ্রেফতার চারজন হলেন, রাউজান উপজেলার বাসিন্দা নারায়ন মজুমদারের ছেলে শ্যামল মজুমদার (৩৭), লোহাগাড়া উপজেলার মজিদের পাড়া এলাকার বাসিন্দা আব্দুল্লাহ আল মামুন (৩৪), কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া এলাকার মৃত আমিনুল হকের ছেলে মো. মামুন হোসেন (৩২) ও লোহাগাড়া উপজেলার বাসিন্দা নছর উল্ল্যাহ স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা (২৭)।
শওকত আলী আরও বলেন, ‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শ্যামল মজুমদার ও মামুন স্বীকার করেছে স্থানীয় বাজার থেকে০ ইয়াবা তৈরির বিভিন্ন কাঁচামাল সংগ্রহ করে মেশিনের মাধ্যমে ইয়াবা ট্যাবলেট তৈরি করতো তারা। অপর আসামি আব্দুল্লাহ আল আমান চট্টগ্রাম মহানগরীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় এসব বিক্রি করতো।’
তিনি আরও বলেন, ‘রাখাল চন্দ্র দাশ নামে এক ইয়াবা ব্যবসায়ীর সঙ্গে শ্যামল কাজ করতো। রাখাল পুলিশের হাতে ধরা পড়ার পর তিন বছর আগে কারাগারে মারা যায়। এরপর শ্যামল নিজেই এই ব্যবসা শুরু করে। গত তিন বছর ধরে তারা ইয়াবা তৈরি করে বিক্রি করে আসছে।’
এক প্রশ্নের জবাবে নগর পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘শ্যামল জানিয়েছে তারা দিনে তিন থেকে পাঁচ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট তৈরি করতো। এসব ইয়াবা ৩০ থেকে ৪০টাকা দরে পাইকারিতে বিক্রি করতো।’








