চট্টগ্রামে চার নারী ধর্ষণের ঘটনায় থানা পুলিশের গাফিলতি আছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে সিএমপি। আদালতের নির্দেশে বুধবার (২৭ ডিসেম্বর) এই কমিটি গঠন করা হয় বলে জানিয়েছেন মহানগর পুলিশের উপ কমিশনার (বন্দর) হারুন উর রশিদ হাযারী।
তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, মহানগর হাকিম আল ইমরান খানের আদালত এ ঘটনায় কর্ণফুলী থানার ওসিকে শোকজ করেন। একই আদেশে সার্বিক বিষয়ে থানা পুলিশের কারও গাফিলতি আছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাঁচ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। সিএমপি উপ কমিশনার বলেন, আদালতের নির্দেশে আমরা বুধবার দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি করেছি। পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (বন্দর) আরেফিন জুয়েলকে প্রধান করে ওই কমিটিতে সহকারী কমিশনার (কর্ণফুলী জোন) জাহেদুল ইসলামকে সদস্য করা হয়েছে। কমিটিকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ১২ ডিসেম্বর কর্ণফুলী থানাধীন শাহমীরপুর এলাকার একটি বাড়িতে ডাকাতির পর ওই পরিবারের চার নারীকে ধর্ষণ করে ডাকাতরা। এ ঘটনায় প্রথমে মামলা নিতে গড়িমসি করে কর্ণফুলী থানা পুলিশ। পরে স্থানীয় সংসদ সদস্য ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের হস্তক্ষেপে গত ১৭ ডিসেম্বর মামলা গ্রহণ করে থানা পুলিশ। তবে তারা চাঞ্চল্যকর এই মামলার তেমন কোনও কূল কিনারা করতে পারেননি। এ ঘটনায় স্থানীয়রা থানা পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। থানা পুলিশ এ ঘটনায় তিন জনকে গ্রেফতার করেছিল। পরে ২৫ ডিসেম্বর নগর পুলিশের ব্যর্থতা স্বীকারের পর ২৬ ডিসেম্বর এই মামলার তদন্তভার গ্রহণ করে পিবিআই। এ ঘটনায় তারা এ পর্যন্ত দুই জনকে গ্রেফতার করেছে। এর আগে মিজান মাতব্বর নামে আরেকজনকে তারা গ্রেফতার করে। মিজান ২৬ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। পরদিন সন্ধ্যায় গ্রেফতার আরেক আসামি আবু শামা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।








