জেএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর গলায় ফাঁস ও বিষপান করে চাঁদপুরে দুই স্কুলছাত্রীর ‘আত্মহত্যা’র খবর পাওয়া গেছে। কেরোসিন খেয়ে ‘আত্মহত্যা’র চেষ্টা করেছে আরও দুজন। শনিবার (৩০ ডিসেম্বর) এ ঘটনা ঘটেছে।
মারা যাওয়া দুজন হলো চাঁদপুর শহরের পীর মহসীন পৌর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণির ছাত্রী ফারজানা আক্তার (১৫) ও ফরিদগঞ্জ উপজেলার পাইক পাড়া ইউজিপি উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণির ছাত্রী ফেরদৌসী আক্তার (১৫)।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দুজন হলো মতলব উত্তর ফরাজীকান্দি চরকালিয়া গ্রামের নসু মিয়ার মেয়ে নাছিমা (১৩) ও বাঘড়া বাজার এলাকার নাসরিন (১৬)। তারা চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে।
চাঁদপুর সরকারি হাসপাতালের মেডিক্যাল অফিসার ডা. নুরুল আলম জানান, তাদের দুজনকেই হাসপাতালে মৃত আনা হয়েছে। এক ছাত্রীর পরিবার জানিয়েছে—তাদের মেয়ে কি খেয়েছে, তারা কিছুই জানেন না। অপর ছাত্রীর পরিবার জানিয়েছে— সে গলায় ফাঁস দিয়েছে। ময়নাতদন্ত ছাড়া আমরা নিশ্চিত করে কিছুই বলতে পারবো না।’
চাঁদপুর মডেল থানার ডিউটি অফিসার এসআই নাসিমা আক্তার বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, হাসপাতাল থেকে লাশ দুটি থানায় আনা হয়েছে।
মারা যাওয়া ফেরদৌসী আক্তার ফরিদগঞ্জ পাইকপাড়া গ্রামের মানিক সরদারের মেয়ে। তার মা শামসুন্নাহার জোছনা বেগম জানান, শনিবার দুপুরে জেএসসির পরীক্ষার ফল প্রকাশ হলে ফেরদৌসী তার পরীক্ষার ফল জানার জন্য স্কুলে যায়। যাওয়ার পথে তার সহপাঠীরা জানায় ফেরদৌসী ফেল করেছে। এই খবর শুনে তিনি (ফেরদৌসির মা) নিজে স্কুলে যান। স্কুলে গিয়ে তিনি টানানো রেজাল্ট শিটে দেখেন তার মেয়ে বি গ্রেডে পাস করেছে। দুই বিষয়ে খারাপ করেছে। বাড়ি ফিরে দেখেন ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে মেয়ের ফাঁস দেওয়া লাশ ঝুলছে। পরে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্মরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। রেজাল্ট শিট না দেখেই পরীক্ষার রেজাল্ট খারাপ হয়েছে ভেবে সে আত্মহত্যা হরেছে। ফেরদৌসী গত বছরও একই পরীক্ষায় ফেল করেছে বলে তিনি জানান। ফেরদৌসীর ছোট বোন সুইটি আক্তার এবারের পিইসি পরীক্ষায় পাস করেছে।
ফারজানা আক্তারের পরিবারের লোকজন জানান, ফারজানা আক্তার পরীক্ষার রেজাল্ট খারাপ হওয়ায় বাড়িতে জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। তাদের মেয়ে বিষপান করেছে মনে করে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। তখন চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে। ফারজানা আক্তার প্রফেসর পাড়া মাঝি বাড়ির দুলাল গাজীর মেয়ে।








