চট্টগ্রাম নগরীর আকবর শাহ থানাধীন বিশ্ব কলোনি এলাকার ‘আয়শা মমতাজ মহল’ থেকে উদ্ধার হওয়া ৯ বছর বয়সী শিশু ফাতেমা আক্তার মিম হত্যা মামলায় ছয় জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত দুই দিন নগরী ও জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। আকবর শাহ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) উৎপল বড়ুয়া এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা শিশুটিকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছে।
গ্রেফতার ছয় আসামি হলেন- মো. বেলাল হোসেন ওরফে বিজয় (১৮), মো. রবিউল ইসলাম ওরফে রুবেল (১৬), মো. হাছিবুল ইসলাম ওরফে লিটন (২৬), মো. আকসান মিয়া প্রকাশ হাসান (১৮), মো. সুজন (২০) ও আয়শা মমতাজ মহলের কেয়ারটেকার মনিরুল ইসলাম মনু। আসামিদের মধ্যে বিজয় পতেঙ্গা থানাধীন নারিকেল তলা এলাকার বাসিন্দা আব্দুল মানিকের ছেলে, রুবেল কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া থানার চণ্ডিপুর গ্রামের বাসিন্দা কাদের ভূইয়ার ছেলে, লিটন মুন্সীগঞ্জ জেলার টঙ্গীবাড়ি আউটশাহী গ্রামের মৃত সিরাজুল ইসলামের ছেলে, হাসান সিলেটের জগন্নাথপুর থানার সোনামঞ্চ এলাকার আরজু মিয়ার ছেলে এবং সুজন কুমিল্লা জেলার নাঙ্গলকোট থানার দৌলখাঁ বাজার এলাকার মৃত আব্দুল হোসেনের ছেলে। তারা সবাই নগরীর আকবর শাহ এলাকায় থাকতেন।
উৎপল বড়ুয়া বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে নিহত শিশু মিমের মা রাবেয়া বেগমের দায়ের করা মামলায় আসামিদের গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ধর্ষণের বিষয়টি স্বীকার করেছে।’
এর আগে রবিবার (২১ জানুয়ারি) রাতে স্থানীয়রা খবর দিলে পুলিশ গিয়ে মিমের (৯ বছর) লাশ উদ্ধার করে। প্রথমে তার পরিচয় পাওয়া যায়নি। পরে মিমের বাবা-মা এসে লাশটি শনাক্ত করে। মীম স্থানীয় বাসিন্দা জামাল হোসেন ও রাবেয়া বেগমের মেয়ে। সে স্থানীয় একটি মাদ্রাসার দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়তো।
ঘটনার সময় পুলিশ জানিয়েছিল, আয়শা মমতাজ মহলের সিঁড়িতে এক শিশুর লাশ পড়ে আছে এমন খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে রবিবার রাত ১০টার দিকে লাশটি উদ্ধার করে। সুরতহাল শেষে ওইদিন রাতে ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে ময়নাতদন্ত শেষে সোমবার রাতে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হলে তারা রাতে লাশটি দাফন করে।
এ ঘটনায় নিহত শিশুর মা রাবেয়া বেগম বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। ঘটনার পরদিন সোমবার (২২ জানুয়ারি) রাতে তিনি ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ এনে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় সুনির্দিষ্ট করে কাউকে আসামি করা হয়নি। তবে ৮ থেকে ১০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।








