মায়ের সঙ্গে বিরোধের জের ধরে ধর্ষণের পর শিশু মীমকে হত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
২৫ জানুয়ারি ২০১৮, ২০:২৯আপডেট : ২৫ জানুয়ারি ২০১৮, ২০:২৯

ডবলমুরিং থানায় অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলন

মায়ের সঙ্গে বিরোধের জের ধরে শিশু ফাতেমা আক্তার মীমকে (৯) সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৫ জানুয়ারি) ডবলমুরিং থানায় অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে নগর পুলিশের উপ-কমিশনার (পশ্চিম) মো. ফারুক উল হক এ তথ্য জানান। চট্টগ্রাম নগরীর আকবর শাহ থানাধীন বিশ্ব কলোনি এলাকার ‘আয়শা মমতাজ মহল’ থেকে গত ২১ জানুয়ারি শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নগর পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন,‘মীমের মায়ের সঙ্গে গ্রেফতার হওয়া আসামি বেলাল হোসেন বিজয়ের মায়ের বিরোধ ছিল। ওই বিরোধের জের ধরে বিজয় অপর আসামিদের যোগসাজশে মীমকে তুলে এনে প্রথমে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। পরে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে।’ গ্রেফতার ছয় আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ এই তথ্য পেয়েছে বলে তিনি জানান।

ফারুক উল হক বলেন,‘ঘটনার দিন হাছিবুল ইসলাম ওরফে লিটন ফুসলিয়ে মীমকে আয়শা মমতাজ মহলে নিয়ে আসে। পরে ওই ভবনের তৃতীয় তলার একটি ফ্লাটে আসামিরা মেয়েটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করে। রাত সাড়ে ৭টায় তাকে ওই বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। রাত সাড়ে ৯টার দিকে আসামিরা মীমের লাশ রেখে পালিয়ে যায়। সুজন তৃতীয় তলা থেকে মীমের লাশ এনে দ্বিতীয় তলার সিঁড়িতে রেখে দ্রুত পালিয়ে যায়।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,‘তৃতীয় তলার ওই ফ্ল্যাটে যারা থাকতেন তারা ছুটিতে গ্রামের বাড়ি গিয়েছিলেন। ভবনের কেয়ারটেকার মনিরুল ইসলাম মনুর কাছে ওই ফ্ল্যাটের ডুপ্লিকেট চাবি ছিল। ওই চাবি দিয়ে দরজা খুলে আসামিরা মীমকে ওই ফ্ল্যাটের ভেতরে নিয়ে যায়।’

ধর্ষণের ঘটনায় গ্রেফতার ছয় আসামি

মীমের মায়ের সঙ্গে আসামি বিজয়ের মায়ের কী নিয়ে বিরোধ ছিল জানতে চাইলে ফারুক উল হক বলেন,‘এক থেকে দেড় মাস আগে মীমের মা রাবেয়া বেগম জিম্মাদার হয়ে বিজয়ের মাকে এনজিও সংস্থা ব্র্যাক থেকে ৫০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে দেন। টাকা নেওয়ার পর বিজয়ের মা তা পরিশোধ না করায় রাবেয়া ঝামেলায় পড়েন। এ নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে ঝগড়া হয়। এর জের ধরে বিজয় ১৫ থেকে ২০ দিন আগে মীমকে একবার নির্যাতনের চেষ্টা করে।’

সংবাদ সম্মেলনে নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (পশ্চিম) নাজমুল হাসান, সহকারী কমিশনার (পাহাড়তলী জোন) পংকজ বড়ুয়া, আকবর শাহ থানার ওসি মুহাম্মদ আলমগীর ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আকবর শাহ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) উৎপল বড়ুয়া উপস্থিত ছিলেন।

আসামিদের গ্রেফতারের বিষয়ে জানতে চাইলে উৎপল বড়ুয়া বলেন,‘ভিকটিমের মায়ের সঙ্গে কথা বলে আমরা ঘটনার ক্লু পাই। পরে বিজয়কে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সে অন্যদের বিষয়ে তথ্য দেন। এরপর আমরা নগরী ও জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে বাকিদের গ্রেফতার করি।’

ওসি মুহাম্মদ আলমগীর বলেন,‘গ্রেফতার হওয়া আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে আমরা জানতে পেরেছি। ঘটনার সঙ্গে মোট সাত জন জড়িত ছিলেন। আমরা মূল পরিকল্পনাকারী বিজয়সহ ৬ জনকে গ্রেফতার করেছি। অপর আসামি সৈকতকে আমরা ধরার চেষ্টা করছি।’ ভবনের কেয়ারটেকার মনিরুল ইসলামকে রিমান্ডে নেওয়ার জন্য আবেদন করা হয়েছে।

গত ২১ জানুয়ারি রবিবার রাতে স্থানীয়রা খবর দিলে পুলিশ গিয়ে মীমের (৯ বছর) লাশ উদ্ধার করে। প্রথমে তার পরিচয় পাওয়া যায়নি। পরে মীমের বাবা-মা এসে লাশটি শনাক্ত করলে পুলিশ লাশের পরিচয় জানতে পারে। মীম স্থানীয় জামাল হোসেন ও রাবেয়া বেগমের মেয়ে। সে স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়তো। তার বাবা জামাল কাপড় ধোয়ার কাজ করেন।

ঘটনার সময় পুলিশ জানিয়েছিল, আয়শা মমতাজ মহলের সিঁড়িতে এক শিশুর লাশ পড়ে আছে এমন খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ২১ জানুয়ারি রাত ১০টার দিকে লাশটি উদ্ধার করে। সুরতহাল শেষে ওইদিন রাতে ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্ত শেষে সোমবার রাতে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হলে তারা রাতে লাশটি দাফন করে।

এ ঘটনায় নিহত শিশুর মা রাবেয়া বেগম বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। ঘটনার পরদিন সোমবার (২২ জানুয়ারি) রাতে তিনি ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ এনে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় সুনির্দিষ্ট কাউকে আসামি করা হয়নি। তবে অজ্ঞাতনামা ৮ থেকে ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

ওই মামলায় পুলিশ ছয়জনকে গ্রেফতার করেছে। আসামিরা হলো, মো. বেলাল হোসেন ওরফে বিজয় (১৮), মো. রবিউল ইসলাম ওরফে রুবেল (১৬), মো. হাছিবুল ইসলাম ওরফে লিটন (২৬), মো. আকসান মিয়া প্রকাশ হাসান (১৮), মো. সুজন (২০) ও আয়শা মমতাজ মহলের কেয়ারটেকার মনিরুল ইসলাম মনু। আসামিদের মধ্যে বিজয় পতেঙ্গা থানাধীন নারিকেল তলা এলাকার বাসিন্দা আব্দুল মানিকের ছেলে, রুবেল কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া থানার চণ্ডীপুর গ্রামের বাসিন্দা কাদের ভূঁইয়ার ছেলে, লিটন মুন্সীগঞ্জ জেলার টঙ্গীবাড়ি আউটশাহী গ্রামের বাসিন্দা মৃত সিরাজুল ইসলামে ছেলে, হাসান সিলেটের জগন্নাথপুর থানার  সোনামঞ্চ এলাকার বাসিন্দা আরজু মিয়ার ছেলে এবং সুজন কুমিল্লা জেলার নাঙ্গলকোট থানার দৌলখাঁ বাজার এলাকার বাসিন্দা মৃত আব্দুল হোসেনের ছেলে। তারা সবাই নগরীর আকবর শাহ এলাকায় থাকে। 

 আরও পড়ুন: সিলেটে হত্যা মামলায় আ.লীগ নেতাসহ ৩০ জন কারাগারে

 

/জেবি/টিএন/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্নে মার্কিন চাপ মানছে না ওমান
ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্নে মার্কিন চাপ মানছে না ওমান
বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে ইউজিসি-ইউএন উইমেন উদ্যোগ
বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে ইউজিসি-ইউএন উইমেন উদ্যোগ
শুরু হচ্ছে প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের ড্রেস ও জুতা বিতরণ
শুরু হচ্ছে প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের ড্রেস ও জুতা বিতরণ
সেই কুমির ফেরত চান মাজারের খাদেম যুবদল নেতা
সেই কুমির ফেরত চান মাজারের খাদেম যুবদল নেতা
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী