কুমিল্লার বুড়িচংয়ে একটি আবাসিক ভবনে বিস্ফোরণের ঘটনায় আহত হয়ে আটক রিয়াজুল ইসলাম জিজ্ঞাসাবাদে মুখ খুলছেন না বলে জানিয়েছে পুলিশ। ফলে বিস্ফোরণের কারণ এখনও রহস্যে ঢাকা। তার জঙ্গি সম্পৃক্ততা থাকার বিষয়টি মাথায় রেখে পুলিশ তদন্ত করছে। বুধবার মধ্যরাতে ওই বিস্ফোরণের পর থেকে ওই ভবন ঘীরে অনুসন্ধান চালাচ্ছে র্যাব, পুলিশ, পিবিআই ও গোয়েন্দারা। তবে এখনও রহস্যের কোনও কূল কিনারা হয়নি।
গত বুধবার মধ্য রাতে জেলার বুড়িচং উপজেলার নাজিরা বাজার সংলগ্ন ঘোষনগর এলাকায় এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। চার তলা বাসার নিচ তলার একটি রুমে থাকতো কুমিল্লা সিটি কলেজের একাদশ শ্রেণির প্রথম বর্ষের ছাত্র রিয়াজুল (১৭) ও তার খালাতো ভাই সোহাগ (১৪)। বাড়ির মালিক তাদের নানা হাজী আবদুল জলিল পরিবার নিয়ে থাকতের পাশের একটি ইউনিটে। মধ্য রাতে রিয়াজুলের রুমে বিকট শব্দে বিস্ফোরণের পর রুমের থাই গ্লাসের জানালা ও স্টিলের দরজা ভেঙে যায়। এ সময় পুরো ভবন কেপে উঠে। বিস্ফোরণে রিয়াজুলের রুমে থাকা কাপড়ে আগুন লেগে যায়। এসময় বাড়ির অন্যান্য ভাড়াটিয়া ও স্থানীয়রা এগিয়ে আসেন এবং আগুন নিভিয়ে রুমে থাকা রিয়াজুল ও সোহাগকে উদ্ধার করেন। বিস্ফোরণে রিয়াজুলের দুই হাত ও মুখের বেশ কিছু অংশ ঝলসে যায়।
রিয়াজুল বর্তমানে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে পুলিশ পাহারায় চিকিৎসাধীন রয়েছে। সে চাপাইনবাবগঞ্জ জেলার সদর উপজেলার উলুকনগর গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে।
এ ঘটনায় জেলার বুড়িচং থানার দেবপুর পুলিশ ফাঁড়ির এসআই শাহাদৎ হোসেন বাদী হয়ে আহত রিয়াজুলকে এজাহার নামীয় আসামি করে অজ্ঞাতনামাদের বিরুদ্ধে সন্ধ্যায় থানায় মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ এ পর্যন্ত আহত রিয়াজুলের চার আত্মীয়কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে।
পুলিশের একাধিক সূত্র জানায়, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রিয়াজুলকে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও বিস্ফোরণের বিষয়ে সে একেক সময় একেক তথ্য দিচ্ছে। সে বিস্ফোরণের বিষয়ে কিছুই জানে না বলে দাবি করছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিয়াজুল ছাড়াও তার যে আত্মীয়দের আটক করা হয়েছে তারা হলেন- তার নানা হাজী আবদুল জলিল, মামা আলমগীর, ফুফাতো ভাই রায়হান ও খালাত ভাই সোহাগ।
এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে শুক্রবার বিকালে ঘটনাস্থলে আসেন পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি ড. এস.এম মনির-উজ-জামান বিপিএম-পিপিএম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. শাহ আবিদ হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আলমগীর হোসেন, আবদুল্লাহ-আল মামুন, ডিবির ওসি একেএম মনজুর আলম, বুড়িচং থানার ওসি মনোজ কুমার পাল ও কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ আবু ছালাম মিয়া।
কুমিল্লা পুলিশ সুপার মো. শাহ আবিদ হোসেন বিপিএম সাংবাদিকদের জানান, ‘আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং প্রাথমিক তদন্তে যেসব তথ্য পাওয়া গেছে, তা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। বিস্ফোরণের বিষয়ে আহত রিয়াজুল নিশ্চিত কোনও তথ্য না দিলেও তার (রিয়াজুল) সঙ্গে জঙ্গি সম্পৃক্ততা থাকার বিষয়টি সামনে রেখে তদন্ত চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।’ তিনি আরও জানান, বোমা বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থল থেকে বিস্ফোরণের আলামতগুলো সংগ্রহ করে শুক্রবার দুপুরে ঢাকায় নিয়ে গেছে। এ ঘটনায় শুক্রবার সন্ধ্যায় বুড়িচং থানার এসআই শাহাদাৎ হোসেন বাদী হয়ে রিয়াজুলকে এজাহার নামীয় আসামি করে অজ্ঞাতনামাদের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক আইনে বুড়িচং থানায় মামলা হয়েছে।
পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি ড. এসএম মনির-উজ-জামান ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের জানান, ‘আমরা ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছি। বিস্ফোরণের আলামত পরীক্ষা ও তদন্ত শেষে ঘটনার বিষয়টি জানা যাবে।’








