কোটবাড়ির সেই ‘জঙ্গি আস্তানায়’ এখন চার পরিবারের বসতি

মাসুদ আলম, কুমিল্লা
৩০ মার্চ ২০১৮, ১৪:২৮আপডেট : ৩০ মার্চ ২০১৮, ১৯:১৩

মা মনি হাউজ কুমিল্লার কোটবাড়ির গন্ধমতি এলাকায় জঙ্গি আস্তানা (মা-মনি হাউজ) সন্দেহে যে বাড়িতে অভিযান চালানো হয়েছিল, এখনও সেখানে পুলিশের নজরদারি রয়েছে। গত বছর ওই বাড়িতে ‘অপারেশন স্ট্রাইক আউট’ শেষে পুলিশ কোনও জঙ্গির সন্ধান পায়নি। তবে নিচতলার একটি ইউনিট থেকে উদ্ধার হয়েছিল বিপুল পরিমাণ বোমা ও বিস্ফোরক। এখন সেই নিচতলায় বাড়ির মালিকসহ মোট চারটি পরিবার বসবাস করছে।

মা-মনি হাউজের (গন্ধমতি জঙ্গি আস্তানা) মালিক দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘গত বছরের ২৯ মার্চ পুলিশ জঙ্গি সন্দেহে আমার বাড়িতে অভিযান চালায়। অভিযান চালানোর আগেই আমার পরিবারসহ সব ভাড়াটিয়াকে অন্য জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যায়। তারপর অভিযান শেষে দুই মাস পর পুলিশের কাছে লিখিত শর্তের মাধ্যমে বাড়িতে ফিরে আসি। তিনতলা ভবনের নিচতলার যে ইউনিটে দুই জঙ্গি ছিল সেই ইউনিটসহ নিচতলায় চারটি পরিবার নিয়ে আমি বসবাস করছি।’ ভবনের দোতলায় আরও তিনটি পরিবার রয়েছে। তিনতলায় নির্মাণকাজ চলায় সেখানে আপাতত কেউ থাকছে না।

দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘নিচতলার ওই ইউনিটে দুজন থাকতো।  একজনের বয়স ৩৫-৪০ বছর হবে, যার মুখে বড় দাঁড়ি ও মাথায় বড় চুল ছিল। অন্যজনের বয়স কম হলেও মুখে হালকা দাঁড়ি ও বড় বড় চুল ছিল। তারা সবসময় দরজা বন্ধ করে থাকতো।’

তিনি বলেন, ‘পুলিশের অভিযানে বাড়ির অনেক ক্ষতি হয়েছে। সরকার কোনও ক্ষতিপূরণ দেয়নি। পুলিশ এখনও খোঁজ-খবর নেয়। ২/১ মাস পর পর সদর দক্ষিণ থানার কোটবাড়ি ফাঁড়ির পুলিশ বাড়িতে এসে পরিদর্শন করে যাচ্ছে।’

নব্য জেএমবির সদস্য আনাছ ও রনি নামে দুই জঙ্গির সন্ধানে গত বছরের ২৯ মার্চ থেকে চার দিন যাবৎ ওই বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। এর আগে ৭ মার্চ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার তীরচর এলাকার পুলিশ দুই জঙ্গি সদস্যকে গ্রেফতার করে।

কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) আলমগীর হোসেন বলেন, ‘গন্ধমতি জঙ্গি আস্তানা ছাড়া কুমিল্লায় আর কোনও আস্তানায় জঙ্গির সন্ধানে অভিযান চালানো হয়নি। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চান্দিনায় পুলিশ জঙ্গি সন্দেহে দুজনকে আটক করলে তারা পুলিশের ওপর আক্রমণ করে পালিয়ে যেতে চেষ্টা চালায়। পরে পুলিশ ও স্থানীয়দের চেষ্টায় দুই জঙ্গি সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। এর কয়েকদিন পর কুমিল্লার কোটবাড়ি গন্ধমতির একটি বাড়িতে জঙ্গির সন্ধানে পুলিশ অভিযান চালায়। অভিযানে কোনও জঙ্গির সন্ধান না পেলেও বেশ কয়েকদিন জেলা পুলিশের জিম্মায় ছিল বাড়িটি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বাড়তি নিরাপত্তা ছিল সেখানে। ২-৩ মাসের মতো বাড়িটি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে ছিল। বর্তমানে বাড়ির মালিককে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।’  

ডিএসবি আলমগীর হোসেন বলেন, “দুটি ঘটনার মধ্যে গন্ধমতি জঙ্গি আস্তানা ছিল ভয়াবহ। গন্ধমতি এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে ‘অপারেশন স্ট্রাইক আউট’ চালানো হয়েছিল। গন্ধমতিসহ যেসব এলাকায় অভিযান বা জঙ্গিদের গ্রেফতার করা হয়েছিল, সংশ্লিষ্ট এলাকায় এখনও পুলিশের নজরদারি রয়েছে।” 

কোটবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নাহিদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘গন্ধমতি জঙ্গি আস্তানাটি এখনও আমাদের নজরে রয়েছে। তবে আস্তানায় বাড়তি কোনও পুলিশ নেই। অভিযানের দুই মাস পর জুন মাসের দিকে জেলা পুলিশের লিখিত শর্তের মাধ্যমে দেলোয়ার হোসেনকে বাড়িতে অবস্থানের অনুমতি দেওয়া হয়। সেখানে বাড়ির মালিকসহ একাধিক পরিবার বসবাস করছে।’

আরও পড়তে পারেন: ফ্ল্যাটটি এখনও খালি, রয়েছে গুলির চিহ্ন

 

/এনআই/এফএস/চেক-এমওএফ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
গরমে শিশুর সুরক্ষা: সামান্য ভুলও ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ
গরমে শিশুর সুরক্ষা: সামান্য ভুলও ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ
থানার ভেতরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে পিটিয়ে আহত, ৩ পুলিশ প্রত্যাহার
থানার ভেতরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে পিটিয়ে আহত, ৩ পুলিশ প্রত্যাহার
ড্রোন কিনতে ২০০০ বিলিয়ন রুপি ব্যয়ের পরিকল্পনা ভারতের
ড্রোন কিনতে ২০০০ বিলিয়ন রুপি ব্যয়ের পরিকল্পনা ভারতের
কুমিল্লায় এক শিশুকে ধর্ষণ ও আরেক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ
কুমিল্লায় এক শিশুকে ধর্ষণ ও আরেক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম