কুমিল্লায় কবিরাজি চিকিৎসায় শেখ ফরিদ নামে এক শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ ওঠে ‘ভণ্ড’ কবিরাজ মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে। এরপর থেকেই তিনি ভারতে পলাতক রয়েছেন বলে ধারণা করছে পুলিশ।
কোতোয়ালি থানার ওসি আবদুস ছালাম মিয়া বলেন, ‘জিন চিকিৎসার নামে শিশুকে নির্যাতন করে হত্যার ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। শনিবার (৩১ মার্চ) রাতে শিশু ফরিদের মা রোজিনা বেগম বাদী হয়ে কবিরাজ মাহবুবকে প্রধান আসামি করে মামলাটি করেন। তিনি এখনও পলাতক। এই ঘটনায় আটক খাদেম শাহাদাত ও অ্যাম্বুলেন্সচালক জহিরুল ইসলামকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। তাদের জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘কবিরাজ মাহবুবের আস্তনায় অভিযান ও তদন্ত করে সন্দেহ হচ্ছে তিনি ভারতে পালিয়ে গেছেন। জিন কবিরাজি চিকিৎসায় ক্ষেত্রে ভারতেও তার অনুসারী (ভক্ত) রয়েছে। শিশুর মৃত্যুর অভিযোগের পর সেখানে তিনি আত্মগোপনে থাকতে পারেন।’
উল্লেখ্য, তিন বছরের শিশু শেখ ফরিদ দুষ্টুমি করার কারণে শুক্রবার (২৯ মার্চ) সকালে ওই ভণ্ড কবিরাজ মাহবুবের কাছে নিয়ে যান তার মা। কবিরাজের দেওয়া শর্ত অনুযায়ী দুষ্টুমি কমাতে ফরিদকে তিন দিনের জন্য কবিরাজের কাছে রেখে আসেন তিনি। ওইদিন রাতে মোবাইল ফোনে কবিরাজের কাছে ছেলের খবর নেন তিনি। কবিরাজ জানায়, ছেলে ফরিদ ভালো আছে, চিকিৎসা চলছে। রবিবারে এসে নিয়ে যাবেন।
এরপর শনিবার (৩১ মার্চ) দুপুরে সাদা কাফনে মোড়ানো শিশু ফরিদের লাশ অ্যাম্বুলেন্সে করে তাদের বাড়িতে পাঠায় কবিরাজ মাহবুবুর রহমান। মোবাইল ফোনে তিনি ফরিদের মাকে বলেন, ‘জিনে আপনার ছেলেকে সকারে মেরে ফেলেছে, গোসল ও জানাজা হয়ে গেছে, দাফন করে দিন।’
শিশু শেখ ফরিদের বাড়ি বুড়িচং উপজেলার ময়নামতিতে (ঝুমুর সংলগ্ন)। সে সিন্দুরিয়া পাড়া গ্রামের প্রবাসী জামাল হোসেনের একমাত্র সন্তান।








