কুমিল্লার লাকসামে আন্তঃজেলা মোটরসাইকেল চোর চক্রের চার সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পরে তাদের দেওয়া তথ্যে ১১টি মোটরসাইকেল ও লক ভাঙ্গার যন্ত্রাংশসহ বিপুল পরিমাণ নম্বর প্লেট উদ্ধার করা হয়। সোমবার (৯ এপ্রিল) তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
লাকসাম থানা সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. নাজমুল হাসান রাফি এক প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে এই তথ্য জানান।
গ্রেফতার চার জন হলো কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার ছোট বেরুলা গ্রামের আবদুল আজিজ মিয়ার ছেলে সাইফুল ইসলাম, নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার জিরুয়া গ্রামের আবদুল হাইয়ের ছেলে মো. রাসেল, একই উপজেলার অশ্বদিয়া গ্রামের নাসির আহমেদের ছেলে আনোয়ার হোসেন ওরফে সুজন ও কানুচর গ্রামের মৃত. শাহ আলমের ছেলে সালাহ উদ্দিন।
লাকসাম থানা পুলিশ জানায়, শনিবার বিকালে লাকসাম পৌর শহরের পশ্চিমগাঁও প্রফেসর কলোনি এলাকায় সাইফুল ইসলাম নামে এক তরুণকে একটি মোটরসাইকেল চুরিকালে হাতেনাতে আটক করে স্থানীয়রা। পরে তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। এ ঘটনায় ওইদিন রাতে মোটরসাইকেলটির মালিক মো. হারুনুর রশিদ বাদী হয়ে লাকসাম থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ওই অভিযোগের প্রেক্ষিতে আটক সাইফুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। তার দেওয়া তথ্যে রাতেই লাকসাম থানা পুলিশের সদস্যরা নোয়াখালী সেনবাগ উপজেলায় অভিযান চালিয়ে ওই মোটরসাইকেল চোরচক্রের মূলহোতা রুবেল মিয়া, আনোয়ার হোসেন সুজন ও সালাউদ্দিনকে আটক করে লাকসাম থানায় নিয়ে আসে। এরপর চুরি হওয়া মোটরসাইকেল উদ্ধারে আটকদের আবারও জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশের সদস্যরা। পরে তাদের দেওয়া স্বীকারোক্তি মতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে পালসার, ডিসকভার, হিরোসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ১১টি চুরি হওয়া মোটরসাইকেল, খুচরা যন্ত্রাংশ, লক ভাঙ্গার যন্ত্রাংশসহ বিপুল পরিমাণ নম্বর প্লেট উদ্ধার করা হয়।
সোমবার তাদের বিরুদ্ধে লাকসাম থানা পুলিশের এসআই বোরহান উদ্দিন ভূঁইয়া বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। পরে ওই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়।
লাকসাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল্লাহ আল মাহফুজ বলেন, ‘আন্তঃজেলা মোটরসাইকেল চোর চক্রের এই চার সদস্যকে আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে রিমান্ডের আবেদন করা হবে।’








