পাহাড়ের মানুষের মনে বিজুর আনন্দ নেই মন্তব্য করে সংসদ সদস্য উষাতন তালুকদার বলেন, ‘ভূমি বিরোধ কমিটির এবং চুক্তি বাস্তবায়ন কমিটির সভা হয়েছে। চুক্তির সর্বশেষ অবস্থা আপনাদের বুঝতে হবে। সরকার নানাভাবে সাধারণ মানুষেকে বিভ্রান্ত করতে চায়। চুক্তির ৯৮ ভাগ বাস্তবায়ন করেছে। যতভাগ করেন না কেন, আসলটা তো দেন নাই। বাংলার ষোল কোটি মানুষের কাছে চুক্তির বিষয়টি বোঝাতে হবে।’
সোমবার (৯ এপ্রিল) সকালে রাঙামাটি পৌরসভা প্রাঙ্গণে রাঙামাটি বিজু, সাংগ্রাই, বৈসুক, সাংক্রান, বিষু ও বিহু উদযাপন পরিষদের উদ্যোগে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
আরও পড়ুন: বিজু বর্জন করবেন লংগদুর অগ্নিদুর্গতরা
উষাতন তালুকদার আরও বলেন, ‘চুক্তির ২০ বছর পরও এখানে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার আঞ্চলিক পরিষদ ও জেলা পরিষদের সঙ্গে সমন্বয় করে সরকারি কার্যক্রম পরিচালনা করবে। কিন্তু, সমতলের ন্যায় এখানকার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার প্রশাসন পরিচালনা করছে; যা আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য নয়।’
সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সদস্য বাঞ্ছিতা চাকমা।
সভাপতিত্ব করেন রাঙামাটি বিজু, সাংগ্রাই, বৈসুক, সাংক্রান, বিষু, বিহু উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক প্রকৃতি রঞ্জন চাকমা। বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাংগঠনিক সম্পাদক শক্তিপদ ত্রিপুরা, লেখক ফোরাম ও জাঁক’র সভাপতি শিশির চাকমা ও সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অরুণ চাকমা।
এর আগে জুম্মদের সাংস্কৃতিক অধিকার নিশ্চিতকরণের স্লোগান নিয়ে শোভাযাত্রা বের করা হয়। প্রতিবছর এই শোভাযাত্রার মাধ্যমে মূলত বৈসাবির আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। পাহাড়িরা এতে অংশ নিয়ে দীর্ঘ বছর ধরে চলে আসা এই শোভাযাত্রায় নিজেদের ঐতিহ্য তুলে ধরে। শোভাযাত্রায় বিভিন্ন নৃ-গোষ্ঠীর তরুণ-তরুণীরা ঐতিহ্যবাহী পোশাক গায়ে দিয়ে তাদের সংস্কৃতি তুলে ধরে। আনন্দ-আমেজে বৈসাবির উপলক্ষ সবার কাছে পৌঁছে দেয় এই শোভাযাত্রা।
এসময় রাঙামাটি পৌরসভা প্রাঙ্গণে পাহাড়িদের ঐহিত্যবাহী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করা হয়।








