সীতাকুণ্ডে রেলওয়ের জায়গা নিয়ে দুই শিল্প প্রতিষ্ঠান কেএসআরএম ও পিএইচপি গ্রুপের মধ্যে সৃষ্ট বিরোধ মীমাংসায় উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি। বিরোধ নিরসনে চেম্বারের পক্ষ থেকে আগামী ২১ এপ্রিল (শনিবার) বিকেল সাড়ে ৩টায় নগরীর আগ্রাবাদের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে সমঝোতা বৈঠকের আয়োজন করেছে সংগঠনটি।
চেম্বারের সভাপতি মাহবুবুল আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, ‘রেলওয়ের ওই জায়গাটি দু’পক্ষ দাবি করছে। যেহেতু এই ঘটনার সঙ্গে দেশের স্বনামধন্য দুটি শিল্প প্রতিষ্ঠান জড়িত তাই আমরা উদ্যোগ নিয়েছি বিষয়টি মীমাংসা করে দেওয়ার। এজন্য আগামী ২১ এপ্রিল আমরা সমঝোতা বৈঠক ডেকেছি। ওই বৈঠকে উপস্থিত থাকার জন্য উভয় পক্ষকে চিঠি দিয়ে অনুরোধ জানানো হয়েছে।’
গত ১৬ এপ্রিল চেম্বারের পক্ষ থেকে ওই দুই পক্ষকে চিঠি দেওয়া হয়। চিঠিতে দুই পক্ষকে তাদের দাবির স্বপক্ষে পূর্বে পেশকৃত প্রয়োজনীয় দলিল পত্রের অতিরিক্ত দলিল থাকলে আগামী দুই দিনের মধ্যে চেম্বারে দাখিল করার অনুরোধ জানানো হয়। চিঠিতে আরও বলা হয়, সমঝোতা বৈঠকে সংসদ সদস্য এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী, এম এ লতিফ, দিদারুল আলম, দৈনিক আজাদী পত্রিকার সম্পাদক এম এ মালেক ও এবিসি গ্রুপের চেয়ারম্যান শওকত আলী চৌধুরী উপস্থিত থাকবেন।
প্রসঙ্গত, সীতাকুণ্ডের বাড়বকুন্ড এলাকায় বিরোধপূর্ণ এই জায়গাটির অবস্থান। ১.৬৪ একরের ওই জায়গায় গত ১৩ মার্চ কেএসআরএম কংক্রিটের খুঁটি গেড়ে বেড়া দিতে গেলে দুই পক্ষ বিরোধে জড়ায়। কবির স্টিল রি-রোলিং মিল (কেএসআরএম) দাবি করেছে জায়গাটি তারা রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ থেকে ইজারা নিয়েছে। অন্যদিকে, পিএইচপি ফ্যামেলিও দাবি করেছে জায়গাটি তারা রেলওয়ে থেকে ইজারা নিয়েছে। কিন্তু কেএসআরএম অন্যায়ভাবে ওই জায়গায় খুঁটি দিয়ে ঘেরাও দিয়েছে।
এদিকে জায়গাটি দু’পক্ষ নিজেদের বলে দাবি করলেও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জায়গাটি কেএসআরএম কৃষি কাজের জন্য রেলওয়ে থেকে ইজারা নিয়েছে। ২০১৭ সালের ২৭ মার্চ ত্রিপক্ষীয় শুনানির মাধ্যমে কেএসআরএম’কে জায়গাটি ইজারা দেওয়া হয় বলেও তারা জানান।
কংক্রিটের খুঁটি গেড়ে বেড়া দেওয়ার ঘটনায় গত ৫ এপ্রিল রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ কেএসআরএম কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছে। চিঠিতে রেলওয়ে থেকে অনুমতি না নিয়ে কংক্রিটের খুঁটি দিয়ে বেড়া দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়েছে এবং বেড়াটি অপসারণ নির্দেশনা দেওয়া হয়।
কেএসআরএম কারখানার উপ-মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী শাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘বেড়া দেওয়ার বিষয়ে আমরা রেলওয়ে কর্তপক্ষ থেকে মৌখিক একটা গাইডলাইন নিয়েছিলাম। তারা জানিয়েছেন, রেললাইন থেকে নিরাপদ দূরুত্বে সম্পূর্ণ অস্থায়ীভাবে বেড়া দিতে। তাই আমরা কংক্রিটের খুঁটি তুলে সম্পূর্ণ অস্থায়ীভাবে বাঁশ দিয়ে বেড়া দিয়েছি। বাঁশের খুঁটির বেড়াটি রেললাইন থেকে ৪১ ফিট দূরুত্বে স্থাপন করা হয়েছে।’








