পাহাড় দখলকারীদের কোনও ছাড় দেওয়া হবে না উল্লেখ করে ত্রাণ ও দুযোর্গ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেছেন,‘পাহাড় দখলকারীরা যতই প্রভাবশালী ও শক্তিশালী হোক না কেন কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। কোনও দুর্ঘটনা ঘটার আগে তাদের সরিয়ে নিতে হবে।’ রবিবার (২২ এপ্রিল) চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে আয়োজিত এক কর্মশালায় তিনি এসব কথা বলেন। ত্রাণ ও দুযোর্গ মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে পাহাড় ধস সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং আগাম সতর্কতামূলক কার্যক্রম সম্পর্কিত এ কর্মশালায় মন্ত্রী প্রধান অতিথি ছিলেন।
মোফাজ্জল হোসেন মায়া বলেন, পাহাড় ধসে মানুষের জান মালের যাতে কোনও ক্ষয়ক্ষতি না হয়, সেই লক্ষ্যে ত্রাণ ও দুযোর্গ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় কঠোর অবস্থানে আছে। প্রতি বছর আমরা শুনি উচ্ছেদ অভিযান চলে। কিন্তু বর্ষা মৌসুম চলে গেলে তারা আবারও ফিরে আসে। এবার আর এটা চলবে না। পাহাড়ের পাদ দেশে অবস্থানকারীদের এবার একে বারে সরিয়ে নিতে হবে। দরকার হলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে কাজ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ‘গত বছর চট্টগ্রাম অঞ্চলে পাহাড় ধসে দুইশ’র বেশি মানুষ মারা গেছে। আমরা চাই না এই বছর কিংবা সামনের বছরগুলোতে এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হোক। পাহাড়ে অবস্থানকারীদের স্থায়ী সমস্যার সমাধানে আমি প্রধানমন্ত্রী এবং জাতীয় সংসদে কথা বলবো। এ বছর পাহাড়ি এলাকায় প্রচুর বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে। তাই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাহাড়ের ঢালে বসবাসকারীদের অবিলম্বে সরে যেতে অনুরোধ করছি। অবৈধভাবে পাহাড় কাটা লোকদের দলীয় পরিচয় বা প্রভাব না দেখে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।’
জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াস হোসেনের সভাপতিত্বে কর্মশালায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. শাহ কামাল, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার শংকর রঞ্জন সাহা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মোহসীন, সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মাসুদুল হাসান ও জেলা সিভিল সার্জন ডা. আজিজুর রহমান সিদ্দিকী বক্তব্য রাখেন।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব শাহ কামাল বলেন, ‘আগামী ১৫ মে এর মধ্যে চট্টগ্রামের ৫ জেলার পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারী কেউ থাকতে পারবে না। তার আগেই অভিযান চালিয়ে তাদের সরিয়ে নিতে হবে। জেলা প্রশাসন অভিযান পরিচালনার ব্যাপারে কোনও নেতা বা প্রভাবশালীকে তোয়াক্কা না করে কঠোর হাতে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাসকারীদের সরিয়ে নিবে।
তিনি আরও বলেন, পাহাড়ে বসবাসকারীদের গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির লাইন কেটে দিতে হবে। তারা যখন কোনও সুযোগ-সুবিধা পাবে না তখন তারা এমনিতেই পাহাড় ছেড়ে চলে যাবে। আমরা আমাদের দায়িত্ব নিজেরাই ঠিক মত পালন করি না। আমি সংশ্লিষ্ট দফতরকে বলছি আপনারা আপনাদের যে কোনও কাজে জেলা প্রশাসনের সহায়তা পাবেন। এত কিছুর পরও এবারের বর্ষায় যদি পাহাড় ধসে একজনও মারা যায় তাহলে তার দায় আপনাদের নিতে হবে।








