শিগগিরই সরকারের সহযোগিতায় সদরঘাট থেকে বাকলিয়ার চর পর্যন্ত বাংলাদেশ নৌ-বাহিনীর মাধ্যমে ড্রেজিং কার্যক্রম শুরু করা হবে বলে জানিয়েছেন বন্দর চেয়ারম্যান কমডোর জুলফিকার আজিজ। তিনি বলেন, ‘কর্ণফুলী নদীতে ক্যাপিটাল ড্রেজিং প্রকল্পটির আওতায় বেড়িবাঁধ ও জেটি নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করা হলেও ড্রেজিং কার্যক্রম সম্পন্ন না করার কারণে ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করা হয়। বর্তমানে আদালতে মামলা চলমান আছে। কিন্তু সদরঘাট থেকে বাকলিয়ার চর পর্যন্ত কর্ণফুলী নদীতে যে হারে পলি জমছে তাতে আমরা শঙ্কিত। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরের মূল্যবান স্থাপনাগুলো নাব্যতা সংকটের মুখোমুখী হতে পারে।’
মঙ্গলবার (২৪ এপ্রিল) দুপুরে নগরীর শহীদ ফজলুর রহমান মুন্সী অডিটোরিয়াম মিলনায়তনে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ তথ্য জানান। চট্টগ্রাম বন্দরের ১৩১ বছর পূর্তি উপলক্ষে প্রচার মাধ্যমের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় শিরোনামে এ সভার আয়োজন করা হয়।
জুলফিকার আজিজ বলেন, ‘দেশবাসীর বহু কাঙ্ক্ষিত বে-টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্পটি সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছে। দেশের প্রচলিত আইনে ভূমি অধিগ্রহণ একটি জটিল প্রক্রিয়া এবং সময় সাপেক্ষও বটে। বে-টার্মিনালের জন্য প্রস্তাবিত ৯০৭ একর জমির মধ্যে মাত্র ৬৮ একর জমি ব্যক্তি মালিকানাধীন, অবশিষ্ট ৮৩৯ একর জমি সরকারি খাস জমি। ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি ইতোমধ্যে সরকার অধিগ্রহণ প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। আমরা আশা করছি, ৩০ মে এর মধ্যে জেলা প্রশাসন অধিগৃহীত ৬৮ একর জমি চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করতে সক্ষম হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘জমি পাওয়ার পরপরই আমরা ডেলিভারি ইয়ার্ড ও ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণ কাজ শুরু করবো। ইতোমধ্যে ডেলিভারি ইয়ার্ড ও ট্রাক টার্মিনালের নকশা প্রণয়নসহ আনুসাঙ্গিক কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ডেলিভারি ইয়ার্ড ও ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণের পর বন্দরে কন্টেইনার ও জাহাজ জট এবং বন্দর এলাকায় ট্রাফিক জ্যাম সহনীয় পর্যায়ে চলে আসবে। ’
বন্দর চেয়ারম্যান বলেন, ‘বন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় আমরা সন্তুষ্ট। এরপরও আমরা বন্দর সংরক্ষিত এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার জন্য সম্পূর্ণ এলাকা সিসিটিভি কভারেজের আওতায় নিয়ে আসার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। খুব শিগগির এ প্রকল্প বাস্তবায়নে পরামর্শক নিয়োগ করা হবে।’
মতবিনিময় সভায় বন্দর সদস্য কমডোর শাহিন রহমান, ক্যাপ্টেন খন্দকার আকতার হোসেন ও কামরুল আমিন, বন্দর সচিব ওমর ফারুকসহ বন্দরের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।








