কুমিল্লার চান্দিনায় এক ভুয়া গাইনি ডাক্তারের চিকিৎসায় একই দিনে দুই নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুক্রবার (৪ মে) কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগে ময়নাতদন্ত শেষে চান্দিনা থানা পুলিশ শিশু দুটির পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করে। পরে বিকালে চান্দিনা উপজেলার বিচুন্দাইর-করইয়ারপাড়া গ্রামের প্রবাসী সফিকুল ইসলামের ছেলে সন্তান এবং কংগাই গ্রামের ওমর ফারুকের ছেলে সন্তানকে তাদের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
নিহত এক শিশুর বাবা ওমর ফারুক বলেন, আমার স্ত্রী প্রথম সন্তান ধারণ করার পর এলাকার লোকমুখে ডাক্তার কামরুন্নাহারের নাম শুনে তারা কাছে প্রায়ই নিয়ে আসতাম। বুধবার বিকালেও তিনি (কথিত ডাক্তার কামরুন্নাহার) আমার স্ত্রীর আল্ট্রাসনোগ্রাফি করে বলেন, বৃহস্পতিবার সকালে আমার স্ত্রীকে নিয়ে আসতে। তার কথামত বৃহস্পতিবার তার চেম্বারে নিয়ে আসি। সেখানে আনার পর তিনি আমার স্ত্রীকে ইজেকশন ও স্যালাইন দেন। বিকালের দিকে ছেলে সন্তান হয়েছে বলে জানান। কিছুক্ষণ পর আবারও জানান, আমার স্ত্রীর সাইড সিজারে সন্তান ডেলিভারি হওয়ায় সে অসুস্থ হয়ে পড়েছে এবং সন্তান মারা গেছে।
নিহত অপর শিশুর খালা কুলসুমা বলেন, ছোট বোনের প্রসব ব্যথা শুরু হলে কামরুন্নাহার ডাক্তারের চেম্বারে নিয়ে আসি। দুপুর ২টায় বোনের সন্তান প্রসব হওয়ার পর থেকে শিশুটির শরীর ধীরে ধীরে ঠান্ডা হয়ে আসছিল। বিষয়টি তাকে (কামরুন্নাহারকে) জানালে তিনি বলেন, ‘আমি ডাক্তার না আপনরা ডাক্তার?’ তিনি আমাদের হাতে একটি কাগজ ধরিয়ে দিয়ে বলেন, ‘এই ইনজেকশনটি নিয়ে আসেন, বাচ্চার অবস্থা ভারো না।’ আমরা বাজার থেকে ইনজেকশন এনে দিলে তারা ওই ইনজেকশনটি শিশুটির শরীরে প্রবেশ করার কিছুক্ষণের মধ্যে মারা যায়।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কামরুন্নাহার বলেন, ‘আমি একটু বাজার থেকে আসছি। আপনারা থাকেন।’ এই কথা বলেই তিনি পালিয়ে যান।
পরবর্তীতে কথিত ওই চিকিৎসক কামরুন্নাহারের মোবাইরে একাধিকবার ফোন করলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
এদিকে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ট ভুয়া ডাক্তারকে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
এদিকে ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত সন্দেহে চান্দিনার দোল্লাই নোয়াবপুর বাজারের নাহার কনসালটেশন সেন্টার থেকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আটক করা ভুয়া গাইনি ডাক্তার কামরুন্নাহারের সহযোগী ইয়াসমিনকে (৩৫) জিজ্ঞাসাবাদের পর ছেড়ে দিয়েছে চান্দিনা থানা পুলিশ।
এ ব্যাপারে চান্দিনা থানার ওসি মোহাম্মদ আলী মাহমুদ বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, সংশ্লিষ্ট ডাক্তারকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
তিনি আরও জানান, নিহত দুইজনের পরিবারের পক্ষ থেকে এখনও কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।








