চট্টগ্রামে স্কুলছাত্রী তাসফিয়া আমিন মৃত্যুর ঘটনার পাঁচদিন পার হয়ে গেলেও, পুলিশ এখনও পর্যন্ত মৃত্যুর কারণ জানতে বা কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তার বাবা। তদন্তেরও উল্লেখযোগ্য কোনও অগ্রগতি নেই। তাসফিয়ার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি এখন পর্যন্ত উদ্ধার করতে পারেনি উল্লেখ করে পুলিশের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে তাসফিয়ার পরিবার। তবে পুলিশ বলছে, ‘ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেলে তার মৃত্যুর কারণ জানা যাবে। ভিসেরা প্রতিবেদনের অপেক্ষায় আছে পুলিশ।’
লাশ উদ্ধারের পর বৃহস্পতিবার (০৩ মে) রাতে তাসফিয়ার বাবা ছয় জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার প্রধান আসামি তাসফিয়ার বন্ধু আদনানকে ওই রাতেই গ্রেফতার করে পুলিশ।
তাসফিয়ার বাবা মোহাম্মদ আমিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘লাশ উদ্ধারের পর ওই দিন রাতে আমি পতেঙ্গা থানায় মামলা দায়ের করেছি। আদনান ছাড়া ওই মামলার আর কোনও আসামিকে পুলিশ এখন পর্যন্ত গ্রেফতার করতে পারেনি। আমরা অপর আসামিদের গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য পুলিশকে বার বার বলছি। কিন্তু তারা (পুলিশ) বার বারই আমাদের বলছেন তারা চেষ্টা করছে।’
তিনি আরও বলেন,‘পুলিশ চাইলে দিনে দিনে আসামি ধরতে পারে কিন্তু তারা কেন এখনও আসামিদের ধরছে না। আমাদের বুঝতে পারছি না। এখানে কোনও একটা ষড়যন্ত্র হচ্ছে, না হয় পুলিশ কেন অপর আসামিদের গ্রেফতার করছে না।’ তিনি দ্রুত অপর আসামিদের গ্রেফতার করে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উম্মোচনের দাবি জানান।
তাসফিয়ার বাবার অভিযোগ অস্বীকার করে পতেঙ্গা থানার ওসি আবুল কাশেম ভূঁইয়া বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা বাকি আসামিদের গ্রেফতারের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। তাদের গ্রেফতারে আমরা অভিযান অব্যাহত রেখেছি। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট হাতে পেলেই আমরা জানতে পারবো তাসফিয়া আত্মহত্যা করেছেন, নাকি তাকে হত্যা করা হয়েছে।’
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আদনান ছাড়া এখন পর্যন্ত এই ঘটনায় আর কাউকে গ্রেফতার অথবা আটক করা হয়নি। সিএনজি চালককে আমরা এখনও সনাক্ত করতে পারিনি। সিএনজি নাম্বারটা এখনও পাইনি। তবে আমরা ওই রুটের বেশ কয়েকটি সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছি। সেগুলো বিশ্লেষণ করে সিএনজি অটোরিকশার নম্বর পাওয়ার চেষ্টা করছি।’
এর আগে শনিবার সন্ধ্যায় নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (কর্ণফুলী জোন) জাহেদুল ইসলাম জানিয়েছেন, সোহেলসহ অপর আসামিদের বাসায় শুক্রবার রাতে অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। কিন্তু তাদের কাউকে বাসায় পাওয়া যায়নি। তাসফিয়ার মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানে পুলিশের আরেকটু সময় প্রয়োজন বলে তিনি জানান।








