কুমিল্লা-ব্রাহ্মণবাড়িয়া মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার অরশিউড়া এলাকায় তেলবাহী লরি এবং একটি মালবাহী ট্রাক গর্তে আটকে দুপুর ১টা থেকে আড়াইটা পর্যন্ত প্রায় আড়াই ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ ছিল।
এসময় রামরাইল এলাকা থেকে সুলতানপুর পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার এলাকা জুরে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ট্রাফিক পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে রেকার দিয়ে ট্রাক দুটিকে মহাসড়ক থেকে অপসারণ করার পর যান চলাচল শুরু হয়।
কুমিল্লা ট্রান্সপোর্ট নামে একটি বাসের যাত্রী মো. সাহিল রহমান ও মো. জাকির হোসেন নারায়ণ চন্দ্র দাস জানান, কুমিল্লা থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিশ্বরোড এলাকা পর্যন্ত প্রায় ৮৫ কিলোমিটার সড়কের বিভিন্ন অংশে খানা খন্দের পাশপাশি বড়-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে এ সড়ক দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পরতে হচ্ছে।
তারা আরও জানান, কুমিল্লা থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া দুই ঘণ্টার রাস্তা হলেও অনেক সময় ৬ ঘণ্টাও লেগে যাচ্ছে। পাশাপাশি যান বাহনে বসে থাকা যাত্রীদের প্রচণ্ড ঝাঁকুনি খেতে হয়। এছাড়াও ঘণ্টার পর ঘণ্টা মহাসড়কে আটকে থেকে তাদের সময় নষ্ট হচ্ছে বলে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
কুমিল্লা-ব্রাহ্মণবাড়িয়া মহাসড়কের ট্রাক ও বাস চালক নাজমুল, কবির ও আব্দুল জলিল জানান, এটাকে মহাসড়ক না বলে জমিন বলা হলে ভালো হতো। যান বাহনের স্বাভাবিক গতি কমিয়ে ২০ কিলোমিটার বেগে গাড়ি চালাতে হচ্ছে। কোথাও কোথাও যানবাহন বিকল হলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা মহাসড়কে আটকে থাকতে হচ্ছে। এর ফলে চালক যাত্রীদের ভোগান্তির যেন শেষই হচ্ছে না। পাশপাশি যান বাহনের মূল্যবান যন্ত্রাংশ নষ্ট হচ্ছে। ভুক্তভোগী চালক ও যাত্রীরা দ্রুত মহাসড়কটি মেরামতের জন্য সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছে।
এদিকে মহাসড়কে দায়িত্বরত ট্রাফিক সার্জেন্ট মো. আবদুল কুদ্দুস জানান,
মহাসড়কে বড় বড় গর্তের কারণে প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও যানবাহন আটকে যাচ্ছে। আমরা রেকার নিয়ে এসব যান বাহন উদ্ধার করে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। তবে রাস্তার যে নাজুক অবস্থা তাতে এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণের জন্য আপাদত কোনও সুরাহা চোখে পরছে না। তবে আমরা মহাসড়কে তৎপর আছি।








