পতেঙ্গার কর্ণফুলীর নদীর তীর থেকে নগরীর সানশাইন গ্রামের স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্রী তাসফিয়া আমিনের লাশ উদ্ধারের ঘটনায় আরও এক আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তার নাম আসিফ মিজান। বুধবার (২৩ মে) রাতে নগরীর নাসিরাবাদ এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। আসিফ তাসফিয়ার বাবা মোহাম্মদ আমিনের দায়ের করা মামলায় চার নম্বর আসামি। নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (কর্ণফুলী) জাহেদুল ইসলাম এ তথ্য জানিয়েছেন।
এ নিয়ে পুলিশ ওই ঘটনায় দুজনকে গ্রেফতার করেছে। এর আগে ঘটনার পরদিন ২ মে তাসফিয়ার বন্ধু আদনান মির্জাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
পুলিশের সহকারী কমিশনার জাহেদুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বুধবার রাতে অভিযান চালিয়ে আমরা আসিফ মিজানকে গ্রেফতার করি। সে তাসফিয়ার বাবার দায়ের করা মামলার আসামি। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।’
এদিকে দুই আসামিকে গ্রেফতার করলেও তাসফিয়ার মৃত্যুর কারণ এখনও জানা যায়নি। সে আত্মহত্যা করেছে, নাকি তাকে হত্যা করা হয়েছে এ বিষয়ে তদন্তে পুলিশের উল্লেখযোগ্য কোনও অগ্রগতি নেই।
গত ২ মে সকালে নগরীর পতেঙ্গার ১৮ নম্বর ব্রিজঘাট এলাকায় কর্ণফুলী নদীর তীরে লাশ দেখে পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অজ্ঞাত পরিচয়ে এক তরুণীর লাশ উদ্ধার করে। পরে লাশের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে পরিবারের লোকজন থানায় গিয়ে শনাক্ত করে লাশটি তাসফিয়া আমিনের।
তাসফিয়া নগরীর সানশাইন গ্রামার স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্রী। তাদের গ্রামের বাড়ি টেকনাফের ডেইলপাড়া এলাকায়। তাসফিয়া পরিবারের সঙ্গে নগরীর ওআর নিজাম আবাসিক এলাকার তিন নম্বর সড়কের কে আর এস ভবনে থাকতেন। এর আগে ঘটনার আগের দিন মঙ্গলবার (১ মে) সন্ধ্যায় তাসফিয়া তার বন্ধু আদনানের সঙ্গে রেস্টুরেন্টে খেতে যায়। এরপর থেকে সে নিখোঁজ ছিল।
এ ঘটনায় পুলিশ ওই দিন রাতে তাসফিয়ার বন্ধু আদনানকে আটক করে। ঘটনার পরদিন ৩ মে দুপুরে এ ঘটনায় তাসফিয়ার বাবা মোহাম্মদ আমিন থানায় হত্যা মামলা দায়ের করলে ওই মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠায় পুলিশ। এ ঘটনায় আদনানকে প্রধান করে ওই মামলায় ছয়জনকে আসামি করা হয়।
মামলার অপর আসামিরা হলো সোহেল (১৭), শওকত মিরাজ (১৭), আসিফ মিজান (১৭), ইমতিয়াজ ইকরাম (১৭) ও ফিরোজ (৩০)।








