কুমিল্লা চৌদ্দগ্রামে বাসে পেট্রোল বোমা হামলায় ৮ জন নিহত ও নাশকতার মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে শ্যোন অ্যারেস্ট এবং জামিনের আবেদন করেছেন তার পক্ষের আইনজীবীরা। সোমবার (২৮ মে) কুমিল্লা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারপতি জেসমিন আরা বেগমের কাছে শ্যোন অ্যারেস্ট এবং জামিনের আবেদন করা হয়। আবেদনের শুনানির শেষে বিচারপতি কোনও আদেশ দেননি।
বিষয়টি নিশ্চিত করেন খালেদা জিয়ার আইনজীবী অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া ও অ্যাডভোকেট কাইমুল হক রিংকু।
অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া বলেন, ‘বাসে পেট্রোল বোমা হামলায় ৮ জন নিহত ও নাশকতার দুটি মামলায় খালেদা জিয়া আজ হাইকোটে জামিন পেয়েছেন। জামিনের বিষয়টি জেলা ও দায়রা জজ আদালতে বিচারপতি জেসমিন আরা বেগমকে জানানো হয়েছে। খালেদা জিয়া যেহেতু এখনও জেলে আছেন, তাই তাকে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো এবং জামিন মঞ্জুরের আবেদন করা হয়েছে ‘ আবেদনের শুনানি শেষে আদেশ পরে জানিয়ে দেওয়া হবে বলে জানান বিচারপতি।
উল্লেখ্য, গত ১২ মার্চ খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা হাজিরা পরোয়ানা (প্রোটেকশন ওয়ারেন্ট) প্রত্যাহার ও জামিন আবেদন করেছিল। আদালত রাষ্ট্রপক্ষকে খালেদা জিয়াকে কেন হাজির করা হয়নি জানতে চাইলে রাষ্ট্রপক্ষ জানায়, খালেদা জিয়ার অসুস্থতার কারণে তাকে আদালতে হাজির করা সম্ভব হয়নি।
১২ মার্চ গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে কুমিল্লার ৫নং আমলি আদালতের বিচারক মুস্তাইন বিল্লাহ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ২৮ মার্চ হাজিরার নির্দেশ দেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৫ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি ভোরে ২০ দলীয় জোটের অবরোধের সময় চৌদ্দগ্রামের জগমোহনপুরে একটি বাসে পেট্রোল বোমা ছুঁড়ে মারে দুর্বৃত্তরা। এতে আটজন যাত্রী দগ্ধ হয়ে মারা যান, আহত হন ২০ জন। এ ঘটনায় চৌদ্দগ্রাম থানার এসআই নুরুজ্জামান বাদী হয়ে ৭৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলায় খালেদা জিয়াসহ বিএনপির শীর্ষস্থানীয় ছয়জন নেতাকে হুকুমের আসামি করা হয়। ৭৭ জন আসামির মধ্যে তিনজন মারা যান, পাঁচজনকে চার্জশিটকে থেকে বাদ দেওয়া হয়। খালেদা জিয়াসহ অপর ৬৯ জনের বিরুদ্ধে কুমিল্লা আদালতে তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবির পরিদর্শক ফিরোজ হোসেন চার্জশিট দাখিল করেন।








