কুমিল্লা-নোয়াখালী ও কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের পিচ, ইট-পাথর উঠে খানাখন্দ ও বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। গত দেড় বছর ধরেই এ দুটি মহাসড়কের বেহাল দশা। ফলে এ পথে চলাচল করা গাড়িচালক ও যাত্রীদের দুর্ভোগে সীমা নেই। দীর্ঘদিন স্থায়ী কোনও সংস্কার না হওয়ায় ঝুঁকি নিয়ে চলছে যাত্রী ও মালবাহী যানবহন। ফলে যানজট ছাড়াও দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের লাকসাম অংশে সড়কে অসংখ্য ছোট-বড় গর্ত আর খানাখন্দে ভরা। মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন এ সড়কে শত শত যানবাহন চলাচল করছে। প্রতিনিয়িত যানবাহন বিকল হয়ে তৈরি হচ্ছে অসহনীয় যানজট। এছাড়াও কুমিল্লা পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড তেলের পাম্পের সামনের অংশ, বাগমারা বাজার, আলীশ্বর বাজার, লাকসাম অংশে লাকসাম বাইপাস, মিশ্রী, নশরতপুর, রেলওয়ে জংশন, ছিলোনিয়া, ভাটিয়াভিটা এলাকাসহ খিলাবাজার, নাথেরপেটুয়া বাজার, বিপুলাশার বাজার ও সোনাইমুড়ীর বেশ কয়েকটি জায়গায় অবস্থা নাজুক।
কুমিল্লা হাইওয়ে পুলিশ সূত্র জানায়, কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়ক সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ। এ মহাসড়কে ২০১৫ সালে ৪১টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৮ জন, ২০১৬ সালে ২৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪০ জন এবং ২০১৭ সালে ৩৮ দুর্ঘটনায় নিহত হয় ২৮ জন।
যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকরা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন স্থায়ী সংস্কার না করায় কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে ছোট গর্তগুলো বড় গর্তে পরিণত হয়েছে। সড়কের পিচ ও ইট উঠে কাদাপানিতে সয়লাব হয়ে পড়েছে। প্রায় প্রতিদিনই যাত্রীবাহী বাস ও মালবাহী ট্রাকের সিক্ল ভেঙে বিকল হয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায়। সময়ও নষ্ট হয়। যানজট, ঘন ঘন গাড়ি বিকল হওয়ায় ক্ষুব্ধ পরিবহন মালিক, শ্রমিক ও যাত্রীরা।
কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের প্রায় ৪৫ কিলোমিটারের অধিকাংশই রাস্তাই খানাখন্দে ভরা। এ সড়ক দিয়ে নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুরসহ দক্ষিণ আঞ্চলের বিপুল সংখ্যক মানুষ প্রতিদিন ঢাকা, চট্টগ্রাম, চাঁদপুর এবং কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাতায়াত করে থাকে।
শাহাআলী বাস মালিক মোহাম্মদ আলী জানান, কুমিল্লা-নোয়াখালী সড়কের জায়গায় জায়গায় গর্তগুলো বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। সামান্য বৃষ্টি হলেই সড়কটিতে গাড়ি চালানো কষ্ট হয়ে পড়ে।
উপকূল বাসের চালক মামুনুর রশিদ জানান, ভাঙা রাস্তার কারণেই প্রতিদিন কোথাও না কোথাও ঘটছে দুর্ঘটনা। গাড়ি বিকল হয়ে যাচ্ছে। ঝাঁকুনির ভয়ে যাত্রীরা বাস থেকে নেমে যেতে চান। এছাড়া ভাঙা রাস্তায় ধীর গতির কারণে সময় অপচয় ও যানজট তৈরি হয়।
বাসযাত্রী আবদুল কাদের জানান, দীর্ঘ দিন এ আঞ্চলিক মহাসড়কের বেহাল দশা। এ সড়কে স্বাভাবিকভাবে যাতায়াত করা অনেক দুঃসহ ব্যাপার। সুস্থ শরীর নিয়ে বাসে উঠে অসুস্থ হয়ে বাস থেকে নামতে হয়।
কুমিল্লা বাস মালিক শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক কাজী মোতাহের হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দীর্ঘদিন কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের বেহাল অবস্থা। এটি সংস্কারে স্থায়ী কোনও উদ্যোগ নেই।
কুমিল্লা হাইওয়ে পুলিশ জানিয়েছে, গত কয়েকদিনে এ সড়কে আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে দুর্ঘটনা। গত মাসে বারেরায় ও কালিকাপুরে দু’টি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে একটি গাছে আটকে যায়। এতে দেখা দেয় তীব্র যানজট।
স্থানীয়রা জানান, দেবিদ্বার নিউমার্কেটের পূর্বপাশের যাত্রী ছাউনির সামনের অংশে আবর্জনা স্তূপ করে রেখে দেওয়া হয়েছে। নেই পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা। দেখলে মনে হয় যেন এটি মাটির রাস্তা। রাস্তার পিচ উঠে সড়কে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত। যা অল্প বৃষ্টিতেই তলিয়ে যায়। উপজেলা পরিষদ, এসএ সরকারি কলেজ, সরকারি হাসপাতালসহ বিভিন্ন ব্যাংক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে হয় এ সড়ক দিয়েই। কাদা পানির মধ্য দিয়েই পথচারী,শিক্ষার্থীরা এ সড়ক দিয়ে চলাচল করেন।
কুমিল্লা-নোয়াখালী মহাসড়কের দুরাবস্থার কথা স্বীকার করেছেন সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোফাজ্জল হায়দার। তিনি জানান, ঠিকাদারের সঙ্গে কথা হয়েছে। শিগগিরই সংস্কার কাজ শুরু হবে। দেবিদ্বার এলাকার সড়কের অবস্থাও খুব খারাপ। সংস্কারের জন্য বারবার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে কিন্তু বৃষ্টির কারণে কাজ করতে সমস্যা হচ্ছে।
আরও পড়ুন:
খুলনা অঞ্চলের সব রাস্তার বেহাল দশা, ঈদযাত্রায় ভোগান্তির শঙ্কা








