টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে খাগড়াছড়ি জেলার শতাধিক গ্রাম (নিম্নাঞ্চল) প্লাবিত হয়েছে। শনিবার ভোররাত থেকে থেমে থেমে বৃষ্টি হলেও রবিবার থেকে টানা বর্ষণে খাগড়াছড়ি জেলা সদরের মুসলিমপাড়া, গঞ্জপাড়া, মেহেদীবাগ, আরামবাগ, শব্দমিয়া পাড়া, মিলনপুর, সাতভাইয়া পাড়া মুখ, খবংপুড়িয়া, শান্তিনগর, অর্পণা চৌধুরী পাড়া, কল্যাণপুরসহ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।
টানা বৃষ্টিতে সোমবার (১১ জুন) মাঝরাত থেকে বিভিন্ন নিন্মাঞ্চলের বাড়িঘরে পানি উঠতে শুরু করে। এতে করে সহস্রাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। এছাড়া খাগড়াছড়ি শহরের বিভিন্ন অংশে অবস্থিত দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পানি উঠছে। পানিবন্দি মানুষেরা শিশু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গঞ্জপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মুসসিলমপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রসহ আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। বন্যার পাশাপাশি টানা বর্ষণের ফলে খাগড়াছড়ি জেলা সদরসহ বিভিন্ন উপজেলায় পাহাড় ধসের শঙ্কা রয়েছে।
পাহাড়ি ঢলের কারণে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার মেরুং ইউনিয়নের ৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। জেলার দীঘিনালা উপজেলার মাইনীনদীর দুকূল উপচে আশপাশের নিচু এলাকা তলিয়েছে। ছোটমেরুং বাজার ও আশপাশের সড়কে পানি ওঠায় খাগড়াছড়ির সঙ্গে রাঙামাটির লংগদু উপজেলার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। এছাড়াও পানিতে তলিয়েছে হাজাছড়া, সোবাহানপুর, চিটাগাংগ্যাপাড়া ও ছদকছড়া এলাকার বেশকিছু গ্রাম ।
এছাড়া মাটিরাঙা উপজেলার ধলিয়া খালের তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল, মানিকছড়ি ও লক্ষিছড়ি উপজেলার ডলু খালের তীরবর্তী অঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। রামগড় উপজেলার ফেনী নদীর তীরবর্তী কালাডেবা, সোনাইফুল, নিউ রামগড়সহ বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। পানছড়ি উপজেলার ফাতেমা নগর, বড় সাঁওতালপাড়া, পুজগাংমুখসহ বিভিন্ন গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। মহালছড়ি উপজেলার সিলেটিপাড়া, চোংড়াছড়ি, ইসলামপুরসহ ১০/১৫টি গ্রাম প্লাবিত হবার খবর পাওয়া গেছে।
খাগড়াছড়ি শহরের চেঙ্গী নদীর পানি বিপদ সীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় আশপাশের গ্রাম ও গ্রামীণ সড়ক পানির নিচে তলিয়ে গেছে।
পার্বত্য চট্টগ্রাম শরণার্থী বিষয়ক টাস্কফোর্সের চেয়ারম্যান ও খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা বলেন, ‘হঠাৎ করে প্লাবিত এলাকায় জরুরি ত্রাণ তৎপরতাসহ সব ধরনের মানবিক সাহায্য দেওয়ার জন্য প্রশাসনসহ স্থানীয় সরকার পরিষদের নেতাদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।’
জেলা প্রশাসক মো. রাশেদুল ইসলাম, খাগড়াছড়ি পৌরসভার মেয়র মো. রফিকুল আলম বলেন, ‘বন্যা দুর্গত যারা বিভিন্ন বিদ্যালয়ে আশ্রয় নিয়েছেন তাদের শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানিসহ প্রয়োজনীয় ত্রাণ সরবরাহ করা হবে।’








