নোয়াখালীর সুবর্ণচরে নিখোঁজ হওয়ার পাঁচ দিন পর কামরুল ইসলাম সাগর নামের এক শিক্ষার্থীর গলাকাটা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১২ জুন) সকাল ৮টার দিকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। এর আগে শুক্রবার (৮ জুন) রাত থেকে সে নিখোঁজ ছিল।
এ ঘটনায় অপহরণ মামলা দায়ের করার পর চারজনকে আটক করে পুলিশ। চরজব্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিজাম উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
নিহত সাগর উপজেলার চরবাটা ইউনিয়নের মধ্য চরবাটা গ্রামের নূর ইসলামের ছেলে। সে চলতি বছর স্থানীয় চরবাটা খাসেরহাট উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করে উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণিতে ভর্তির জন্য আবেদন করেছিল।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে স্থানীয় একটি নালার মধ্যে লাশ দেখতে পেয়ে চিৎকার শুরু করেন স্থানীয় এক বাসিন্দা। এ সময় আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে এসে চরজব্বার থানায় খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে সাগরের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, নূর ইসলামের ছেলে সাগরের সঙ্গে একই এলাকার রহমত উল্লাহর মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বিষয়টি জানাজানি হলে সাগর ও তার পরিবারের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন রহমত উল্লাহ। তিনি বেশ কয়েকবার সাগরকে মারধরও করেছেন। শুক্রবার রাত ১০টার দিকে রহমত উল্লাহর ভাড়াটে মাস্তান স্থানীয় মনোরঞ্জন দাসের ছেলে মিঠুন চন্দ্র দাসের সঙ্গে তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে সাগরের। বাসায় ফিরে আসার পর রাত আনুমানিক ১১টার দিকে সাগরকে কে বা কারা ফোন দিয়ে ডেকে নিয়ে যায়। তারপর থেকে সে আর বাড়ি ফেরেনি। পরিবারের লোকজন সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজ করেও তার সন্ধান পায়নি। এ ঘটনায় সাগরের বড় ভাই শনিবার রাতে চরজব্বার থানায় রহমত উল্লাহ, মিঠুন চন্দ্র দাস, রহমত উল্লাহর মেয়ে, তার স্ত্রী এবং ছেলে দেলোয়ার হোসেন কিসমতকে আসামি করে একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন।
ওসি জানান, ‘অপহরণের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ গত রবিবার মিঠুন চন্দ্র দাস, রহমত উল্লাহর স্ত্রী ও মেয়েকে আটক করে। মঙ্গলবার আটক করে ছেলেকে। সোমবার রহমত উল্লাহর স্ত্রী ও মেয়েকে আদালতে সোপর্দ করলে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠায়।’
এদিকে পুলিশ সুপার একেএম জহিরুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং আসামি মিঠুন চন্দ্র দাসের বাড়ি থেকে রক্তমাখা কাপড়চোপড় জব্দ করে থানায় নিয়ে আসেন। রহমত উল্লাহ ও কিসমত শনিবার থেকে পলাতক রয়েছেন।








