কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলায় বাঁশ দিয়ে রোগীর ভাঙা হাড়ের চিকিৎসা করায় পা হারাতে বসেছে মো. সোহাগ নামে এক স্কুল শিক্ষার্থী। ভুল চিকিৎসার কারণে তার পা চার ইঞ্চি ছোট হয়ে গেছে। হাড় ভাঙার পর দেবিদ্বারে কথিত জসিম ডাক্তারের পঙ্গু হাসপাতালে এনামুল হক ও মামুনুর রশিদ নামে দুজন হাতুড়ে ডাক্তার তার চিকিৎসা দেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
সোহাগ দেবিদ্বার উপজেলার মঘপুস্করণী গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে। সে মোহাম্মদপুর এ. আর. উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী।
স্থানীয়রা জানান, গত ২৭ মার্চ উপজেলার মোহাম্মদপুর সেরাজুল হক কলেজ মাঠে ক্রিকেট খেলতে গিয়ে চোট পেয়ে ডান পায়ের হাড় ভেঙে যায় সোহাগের। চিকিৎসার জন্য তাকে স্থানীয় জসিম ডাক্তারের পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তাকে চিকিৎসা দেন এনামুল হক ও মামুনুর রশিদ। তিন মাস চিকিৎসার পর দেখা যায় তার হাড় শুকিয়ে পা ছোট হয়ে গেছে। পরে ২৩ জুন ময়নামতি ক্যান্টনমেন্ট জেনারেল হাসপাতালে ডা. মো. শাহনেওয়াজ খানের তত্ত্বাবধানে তাকে ভর্তি করা হয়।
ডা. শাহনেওয়াজ বলেন, ‘ভুল চিকিৎসার কারণে ওই রোগীর হাড় জোড়া লাগেনি। হাড় শুকিয়ে পা ছোট হয়ে গেছে। রোগীর পুরোনো ব্যান্ডেজ খোলার পর দেখা যায় ভিতরে বাঁশের চটি দিয়ে মোড়ানো। চটির আঘাতে তার ভাঙা পায়ে ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে।’
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জসিম ডাক্তারের কোনও সরকারি সনদ নেই। তিনি দীর্ঘদিন ধরে দেবিদ্বার উপজেলায় রোগীর ভাঙা হাড়ের চিকিৎসা করে আসছেন। তার ভুল চিকিৎসার কারণে অনেক রোগী পঙ্গুত্ব বরণ করছেন। জসিম ডাক্তারের হাসপাতালে এমন অহরহ ভুল চিকিৎসা হয়েছে। ভুল চিকিৎসার ঘটনায় তার ছেলেদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে ভুক্তভোগীরা।
মোহাম্মদপুর এ. আর. উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মিজানুর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘সোহাগ দরিদ্র পরিবারের ছেলে। তাকে রক্ত দিয়ে সহযোগিতা করেছি। ওই হাতুড়ে চিকিৎসকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি। সেইসঙ্গে ওই রোগীর ক্ষতিপূরণ আদায়ের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ করছি।’
শিক্ষার্থী মো. সোহাগ বলেন, ‘আমি খুবই অসুস্থ। ভুল চিকিৎসায় আমি পা হারাতে বসেছি। হাতুড়ে চিকিৎসকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’
এ বিষয়ে জানতে হাতুড়ে ডাক্তার জসিম উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
কুমিল্লার সিভিল সার্জন ডা. মুজিবুর রহমান জানান, মানসম্মত চিকিৎসা না হওয়ায় গত ২৬ জুন হাসপাতালটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। রোগীরা ওই হাসপাতালে ভর্তি হয়ে প্রতারিত হয়ে আসছিল। লিখিত অভিযোগ পেলে ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।








