ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের হালদার পাড়ার শামীম ক্যাডেট কোচিং অ্যান্ড একাডেমীক কেয়ার নামে একটি প্রতিষ্ঠানের দুজন আবাসিক শিক্ষার্থী প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক দ্বারা যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার জেরে রবিবার (৮ জুলাই) সকালে এলাকার লোকজন ওই শিক্ষককে মারধর দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) জিয়াউল হক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নির্যাতনের শিকার শিক্ষার্থীরা জানান,শহরের হালদার পাড়ায় শামীম ক্যাডেট কোচিং অ্যান্ড একাডেমীক কেয়ার প্রতিষ্ঠানে তারা আবাসিক শিক্ষার্থী হিসেবে পড়াশোনা করেন।ওই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক লুৎফুর রহমান শামীম প্রায় তাদেরকে যৌন নির্যাতনে বাধ্য করতেন। শিক্ষকের যৌন নির্যাতনে রাজি না হলে প্রায়ই নির্যাতনের ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখাতেন। এ ঘটনা সম্প্রতি ওই দুই শিক্ষার্থী তাদের বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করার পর বিষয়টি জানাজানি হয়।বিষয়টি জানাজানি হলে রবিবার সকালে এলাকার লোকজন ওই শিক্ষককে ধরে মারধর করেন।পরে পুলিশ এসে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
নির্যাতনের শিকার শিক্ষার্থী দুজন ওই শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
শিক্ষার্থীদের স্বজন মকবুল হোসেন, শিহুন আহমেদ ও তৈমূর জানান, ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর আমরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসি।তারা জানান, আমাদের সন্তানেরা এতোদিন ভয়ে কাউকে কিছু বলেনি। আমরা বিষয়টি জানতে পেরেছি। এই ঘটনার নিন্দা জানাচ্ছি।ওই শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।
তবে অভিযুক্ত শিক্ষক লুৎফুর রহমান যৌন নির্যাতনের ঘটনা অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি ষড়যন্ত্রের শিকার। তারা আমাকে মিথ্যা অভিযোগের ভিত্তিতে মারধর করেছেন। আমি এ সবের কিছুই জানি না।’
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) জিয়াউল হক বলেন, ‘আমরা ঘটনা সর্ম্পকে জানতে পেরেছি। শিক্ষককে আটক করেছি। অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইননানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ভুক্তভোগী দুই শিক্ষার্থী শহরের একটি স্বনামধন্য বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ ও অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী।তাদের উভয়ের বাবা বিদেশ থাকেন।








