রাঙামাটির নানিয়ারচর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পদে উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির ভোটই ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ এখানে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থী নেই। বুধবার (২৫ জুলাই) এখানে ভোটগ্রহণ করা হবে। তবে, ভোটাররা বলছেন— নির্বাচনে দুই আঞ্চলিক দলের শক্তির লড়াই হবে।
রাঙামাটির পুলিশ সুপার আলমগীর বলেন, ‘স্মরণকালের সেরা নিরাপত্তা থাকবে নির্বাচনের দিন। যেহেতু গত ৩ মে নিজ কর্যালয়ের সামনে দুর্বৃত্তের গুলিতে নানিয়ারচর উপজেলা চেয়ারম্যান শান্তিমান চাকমা নিহত হন। তাই যেকোনও ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা মোকাবিলার জন্য আমরা প্রস্তুত। নির্বাচনের দিন পাঁচ শতাধিক পুলিশ মোতায়েন থাকবে। সেনাবাহিনী ও বিজিবি টহল দল কেন্দ্রের আশে-পাশে থাকবে।’
চেয়ারম্যান পদে চার জন প্রার্থীতা জমা দিলেও একজন প্রত্যাহার করেন। তিন প্রার্থীর মধ্যে প্রনতি চাকমা ও কল্পনা চাকমা ইউপিডিএফ সমর্থিত এবং প্রগতি চাকমা জেএসএস (এমএনলারমা) সমর্থিত প্রার্থী বলে স্থানীয়ভাবে জানা গেছে।
প্রগতি চাকমা আনারস প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে লড়ছেন। তিনি বলেন, ‘সাবেক্ষ্যং ইউনিয়নের ভোটাররা কিছুটা চাপে থাকলেও আশা করছি তারা তাদের মনোনীত প্রার্থীকে চাপমুক্ত হয়ে ভোট দিতে পারবে। যদি ভোটররা চাপমুক্ত হয়ে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারে, তাহলে আমি জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী।’
ইউপিডিএফ সমর্থিত প্রার্থী প্রনতি চাকমা নির্বাচন শুরু কয়েকদিন পর থেকে এলাকায় কোনও প্রচারণায় যাননি। ভোটের দিন তার নিজ কেন্দ্রে ভোট দেবেন বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমি গত উপজেলা নির্বাচনেও জেলায় বসে নির্বাচন করেছি, এবারও তাই করছি। ’
নানিয়ারচরের উপ-নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার ও জেলা নির্বাচন অফিসার মো. আব্দুল লতিফ শেখ বলেন, ‘বাংলাদেশের যেকোনও জায়গার তুলনায় এই উপ-নির্বাচনের তিনগুন ফোর্স নিয়োগ করা হয়েছে। গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচন এবং ভোটাররা যেন ভোট দিতে পারে সেই ব্যবস্থা করেছি। ’
উল্লেখ্য, ৩ মে নিজ কর্যালয়ের সামনে দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত হন নানিয়ারচর উপজেলা চেয়ারম্যান শান্তিমান চাকমা। শুন্য পদে উপ-নির্বাচনের জন্য ১১ জুন রাঙামাটি জেলা নির্বাচন অফিসার ও নানিয়ারচর উপজেলা রিটার্নিং অফিসার আব্দুল লতিফ শেখ স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
নির্বাচনে চারটি ইউনিয়নে মোট ৩২ হাজার ৮৫৪ জন ভোটার, ১৪টি ভোটকেন্দ্র ও ৮৩টি বুথ রয়েছে। ১৪টি ভোটকেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় রাখা হয়েছে।








