গ্ল্যাক্সোস্মিথক্লাইন (জিএসকে) বাংলাদেশ লিমিটেড তাদের নিজেদের লোকসানজনক ফার্মাসিউটিক্যালস ইউনিট বন্ধ করায় চট্টগ্রামস্থ কারাখানার সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেছে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। বৃহস্পতিবার (২৬ জুলাই) বিকালে রাজধানী ঢাকার হোটেল লা মেরিডিয়ানে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে একটি সভার আয়োজন করা হয়। সভায় কোম্পানির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বাংলাদেশে তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম পর্যালোচনা শেষে ফার্মাসিউটিক্যালস ব্যবসা ও উৎপাদন কারখানা বন্ধের ঘোষণা দেয়।
জিএসকে থেকে জানানো হয়, বেশ কিছুদিন ধরে বাংলাদেশে বহুজাতিক ওষুধ কোম্পানিটির কার্যক্রম বন্ধের প্রক্রিয়া চলছিল। সারা বিশ্বের প্রায় ৭০টি দেশের সাথে সমন্বয় করে বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম পর্যালোচনা করে আসছিল। এর প্রেক্ষিতে গত ২২ জুলাই কোম্পানির পর্ষদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কোম্পানির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বাংলাদেশে তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম পর্যালোচনা শেষে ফার্মাসিউটিক্যালস ব্যবসা ও উৎপাদন কারখানা বন্ধের ঘোষণা দেয়।
এদিকে কারখানা বন্ধের ঘোষণার পরপরই ঢাকা ও চট্টগ্রামে প্রতিষ্ঠানটির কর্মীরা বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। তাৎক্ষণিক ভাবে কর্মীরা মিছিল ছাড়াও কাজ বন্ধ করে দিয়ে অবস্থান কর্মসূচি ঘোষণা করে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন বিভাগের এক ম্যানেজার বলেন, ‘বিকালে কারখানা বন্ধ ঘোষণার পর শ্রমিক, কর্মচারী, কর্মকর্তা, প্রকৌশলীসহ জিএসকে’র কর্মীরা বিক্ষোভ শুরু করে। কারখানা চালুর ঘোষণা ছাড়া কর্মীরা ফৌজদারহাটের কারখানা ছেড়ে বের না হওয়ায় সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’ কারখানা বন্ধ করে যেকোনও ধরনের সুযোগ-সুবিধার বিনিময়েও বিক্ষোভ কর্মসূচি বন্ধ করবে না বলে জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার বিকালে জিএসকে’র কারখানার মূল ফটকে গিয়ে দেখা গেছে, শ্রমিকরা হ্যান্ড মাইক নিয়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে। কারখানা চালু করার ঘোষণা ছাড়া কর্মীরা কারখানা প্রাঙ্গণ ছেড়ে যাবেন না বলে দাবি করেছেন। এ সময় বিপুল সংখ্যক নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে ফৌজদারহাটের কারখানায়।
শ্রমিক-কর্মচারী এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের সভাপতি মো. ইলিয়াস ও সাধারণ সম্পাদক মো. আজম কোম্পানির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে এই ব্যাপারে আলোচনা করছেন। শ্রমিক-কর্মচারীদের দাবির প্রেক্ষিতে কোম্পানির দেশি-বিদেশি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও পরিচালক জরুরি বৈঠকে মিলিত হয়। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কারখানা চালুর বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত জানাতে পারেনি কোম্পানির পক্ষ থেকে।








