ভারতীয় শিক্ষার্থী আতিফ শেখ হত্যার ঘটনায় ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্টকে (সিআইডি) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) দেওয়া অভিযোগপত্রটি গ্রহণ না করে আদালত এ নির্দেশ দেন। মঙ্গলবার (৩১ জুলাই) মহানগর হাকিম আবু সালেম মো. নোমানের আদালত এ আদেশ দেন। নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (প্রসিকিউশন) কাজী সাহাবুদ্দিন আহমেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে গত ২২ জুলাই আতিফ শেখ এর স্বদেশী বন্ধু উইনসন সিংকে আসামি করে পিবিআই পরিদর্শক সন্তোষ কুমার চাকমা আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। অভিযোগপত্রে শুধুমাত্র উইনসন সিংকে আসামি করা হয়েছে।
কাজী সাহাবুদ্দিন আহমেদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘গত ২২ জুলাই অভিযোগপত্র জমা দেওয়ার পর মঙ্গলবার (৩১ জুলাই) শুনানি হয়। শুনানিতে আদালত অভিযোগপত্রটি গ্রহণ না করে মামলাটি আরও অধিকতর তদন্তের জন্য পুলিশের ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্টকে (সিআইডি) নির্দেশ দিয়েছেন।’
গত বছরের ১৪ জুলাই রাতে নগরীর আকবর শাহ থানাধীন আব্দুল হামিদ সড়কের পাশে লেকভিউ সোসাইটির একটি আবাসিক ভবনের পঞ্চম তলার একটি ফ্ল্যাট থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় আতিফ শেখ ও তার বন্ধু উইলসন সিংকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায় তাদের আরেক স্বদেশি সহপাঠী নিরাজ গুরু। হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আতিফকে মৃত ঘোষণা করেন। তাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। অন্যদিকে উইলসন গলায় ফাঁস দিয়ে গুরুতর আহত হয়।
ভারতীয় এই তিন শিক্ষার্থী তাদের এক বান্ধবীসহ ওই ফ্ল্যাটে থাকতেন। এ ঘটনার চারদিন পর আতিফ শেখের বাবা আব্দুল খালেক চট্টগ্রামে এসে আকবর শাহ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় কাউকে সুনির্দিষ্ট আসামি না করলেও আটজনকে সন্দেহভাজনের তালিকায় রাখেন।
এ ঘটনায় থানা পুলিশ নিরাজকে গ্রেফতার করে। নিরাজ আদালতে জবানবন্দিতে জানান, সে ঘটনার বিষয়ে কিছু জানে না। দুজনকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখে সে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান। তাদের মধ্যে আতিফকে ওই কক্ষে ছুরিকাঘাত অবস্থায় এবং উইলসনকে গলায় বেল্ট দিয়ে ফাঁস দেওয়া অবস্থায় দেখতে পায়।
পরে মামলাটি পিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হলে পিবিআই সদস্যরা এই মামলায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা উইলসন সিংকে গ্রেফতার দেখায়। পরে উইলসন সুস্থ হওয়ার পর পুলিশ দুই দফায় রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে। জিজ্ঞাসাবাদে সে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে কোনও তথ্য না দেওয়ায় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিএনএ পরীক্ষার আবেদন জানান। পরে আদালতের নির্দেশে উইলসন ও নিরাজ গুরুর ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়। সিআইডি ল্যাবে সম্পন্ন হওয়া ওই পরীক্ষায় ঘটনাস্থলে পাওয়া রক্তাক্ত ছুরির বাঁট থেকে যে ডিএনএ নমুনা পাওয়া গেছে তার সঙ্গে উইলসনের ডিএনএর মিল পাওয়া গেছে। অপর স্বদেশি নিরাজ গুরুর ডিএনএ ছুরিতে পাওয়া যায়নি।








