উখিয়ায় আরও তিন রোহিঙ্গা নিখোঁজ, অপহরণের অভিযোগ

টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৯:১৭আপডেট : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৯:১৭

উখিয়ায় আরও তিন রোহিঙ্গা নিখোঁজ, অপহরণের অভিযোগ কক্সবাজারের টেকনাফে পুটিবনিয়া রোহিঙ্গা শিবিরের পাশে পাহাড়ের ভেতর থেকে গলাকাটা অবস্থায় উদ্ধার তিন রোহিঙ্গাকে উখিয়া থেকে অপহরণ করা হয়েছিল। পুলিশের ধারণা, তাদের উখিয়া থেকে অপহরণ করে টেকনাফ পাহাড়ে এনে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে এ ঘটনায় আরও তিনজন নিখোঁজ রয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

সোমবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে কক্সবাজারের টেকনাফের হোয়াইক্যং পুটিবনিয়া রোহিঙ্গা (চাকমারকূল) শিবিরের তিন কিলোমিটার ভেতরে পাহাড় থেকে গলাকাটা অবস্থায় তিন রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করা হয়। তারা হলেন- উখিয়ার বালুখালী ই-বক্লের বাসিন্দা নুর আলম (৪৫), কুতুপালং লম্বাশিয়া বক্ল-৩ মো. খালেক (২২), একই শিবিরের মো. আনোয়ার (৩৩)। এছাড়া আহত খালেকের বাবা মোস্তাফা জামালসহ (৫৫) আরও দুজনের নিখোঁজ থাকার খবর পাওয়া গেছে।





এ প্রসঙ্গে উখিয়া থানার ওসি আবুল খায়ের বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘টেকনাফ থেকে গলাকাটা অবস্থায় উদ্ধার রোহিঙ্গাদের রবিবার রাতে উখিয়া রোহিঙ্গা শিবির থেকে অপহরণ করা হয়েছিল। তাদের উখিয়া রেডক্রিসেন্ট ও মালয়েশিয়ান (এমএসএফ) ফিল্ড হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বিস্তারিত পরে জানানো হবে।’
টেকনাফ হোয়াইক্যং পুটিবনিয়া (চাকমারকূল) রোহিঙ্গা শিবিরের হেড মাঝি মো. জাবের বলেন, ‘টেকনাফের পাহাড় থেকে প্রথমে খালেককে উদ্ধার করা হয়। তার গলাকাটা ছিল এবং প্রচুর রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। উখিয়া থেকে তাদের ছয়জনকে রবিবার রাত ১২টার দিকে অপহরণ করে একদল দুর্বৃত্ত। পরে তাদের টেকনাফ পাহাড়ে এনে রাতে ১টার দিকে গলাকেটে হত্যার চেষ্টা করে।’ এছাড়া ওই রোহিঙ্গা আর কিছু বলতে পারেননি।


হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নূর আহম্মদ আনোয়ারী স্থানীয়দের বরাত দিয়ে বলেন, ‘উখিয়ার একটি রোহিঙ্গার শিবির থেকে ছয় রোহিঙ্গাকে অপহরণ করা হয়েছে। এরমধ্যে হোয়াইক্যং এলাকার রোহিঙ্গার শিবির থেকে তিন কিলোমিটার দূরে পাহাড়ের ভেতরে তিন রোহিঙ্গাকে গলাকাটা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় এখনও আরও তিনজন নিখোঁজ রয়েছেন। তবে কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তা এখনও সন্ধান পাওয়া যায়নি।’
এর আগে গত শুক্রবার (৩১ আগস্ট) টেকনাফে লেদা ক্যাম্পের এক রোহিঙ্গা প্রহরীকে গুলি করে হত্যা করা হয়। নিহতের নাম মো. ইয়াসের। তিনি লেদা ক্যাম্পের এফ ব্লকের বাসিন্দা। ২০০৮ সালে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এসে তিনি এই ক্যাম্পে আশ্রয় নেন। তিনি মিয়ানমারের বুশিডং মইডংগ্রামের বাসিন্দা।


বর্তমানে টেকনাফ ও উখিয়ার আশ্রয় শিবিরগুলোতে নতুন ও পুরাতন মিলে ১১ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গার অবস্থান রয়েছে। এইসব রোহিঙ্গারা ইয়াবা, হত্যা, মানবপাচার, ধর্ষণ ও অপহরণসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে বলে খবর পাওয়া গেছে। গত বছরের ২৫ আগস্টের পর বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের ঢল নামে। এই এক বছরে এসব রোহিঙ্গা শিবিরে ২১টি খুনের ঘটনা ঘটেছে।

/এআর/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম