বর্তমানে মাদকাসক্তদের কাছে জনপ্রিয় মাদক হচ্ছে ‘ইয়াবা।’ ইয়াবা পার্শ্ববর্তী দেশ মিয়ানমারে তৈরি হয়ে টেকনাফ ও কক্সবাজার দিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাচার করে আসছে। মাদক ব্যবসায়ীরা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে জল, স্থলপথ ও বিমান পথে ইয়াবার বড় বড় চালান দেশে নিয়ে আসছে। এসব চালানের কিছু ধরা পড়ছে, আবার কিছু পৌঁছে যাচ্ছে গন্তব্যে।
তবে ইয়াবার বিশাল চালান ধরার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি সফল টেকনাফ ২ ব্যাটালিয়নের বিজিবি। বিজিবির দাবি, টেকনাফে মাদকের ব্যাপারে তাদের জিরো টলারেন্স। তাই তারা একের পর এক ইয়াবার বড় বড় চালান আটক করতে সক্ষম হচ্ছে। গত সেপ্টেম্বর মাসেই ১৪ লাখ ২৪ হাজার ৬৮৯ পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে বিজিবি। এছাড়া বিভিন্ন মাদকদ্রব্য ও চোরাই পণ্য জব্দ করা হয়েছে।
বুধবার এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন টেকনাফ ২ বর্ডার র্গাড ব্যাটলিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মোহাম্মদ আছাদুদ-জামান চৌধুরী।
বিজিবি’র তথ্য মতে, গত সেপ্টেম্বর মাসে নাফনদী, সীমান্ত ও চেকপোস্টে অভিযান চালিয়ে ১৪ লাখ ২৪ হাজার ৬৮৯ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে পাচারকারিসহ ৬৬ হাজার ৭১৩ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। বাকি ১৩ লাখ ৫৭ হাজার ৯৭৬ পিস ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় কাউকে আটক করতে পারেনি বিজিবি। এ ঘটনায় ৩৮টি মামলায় ৩২ জনকে আটক ও ২০ জনকে পলাতক আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এছাড়াও উদ্ধার করা হয়েছে ১০০ ক্যান বিয়ার, ১৬৩ বোতল বিদেশি মদ, ১ লিটার চোলাই মদ, ১৮ বোতল ফেনসিডিল ও ৯.৫০৭ কেজি গাঁজা এবং ১ কোটি ৫১ লাখ ২৭ হাজার ৩২০ টাকা মূল্যের চোরাই পণ্য উদ্ধার করা হয়েছে। এসব ঘটনায় ২৭টি মামলা করা হয়েছে এবং একজনকে আটক করে থানায় সোর্পদ করা হয়েছে গত মাসের ৮ সেপ্টেম্বর কক্সবাজারের টেকনাফে আড়িয়া খাল থেকে ৮ লাখ এবং হাড়িয়াখালী লবন মাঠ থেকে ১ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। তবে ওই সময় কাউকে আটক করা যায়নি।
এ প্রসঙ্গে টেকনাফ ২ বর্ডার র্গাড ব্যাটলিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. আছাদুদ-জামান চৌধুরী বলেন,‘মিয়ানমার থেকে জল পথে আসা টেকনাফ হয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে যাচ্ছে। এ ব্যাপারে আমরা বরাবরই জিরো টলারেন্স দেখিয়ে আসছি। গত এক মাসে আমাদের পারফরম্যান্সই এর প্রমাণ। এ মাসে আমরা সাড়ে ১৪ লাখের বেশি ইয়াবা উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছি। মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং থাকবে।’
তিনি আরও বলেন,‘মাদকদ্রব্যের টাকা জোগাড়ের জন্য মাদকাসক্তরা বিভিন্ন ধরনের অনৈতিক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে। দেশব্যাপী মাদকের বিস্তার রোধ এবং দেশের যুবসমাজকে মাদকের ভয়াল থাবা থেকে রক্ষার জন্য প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে বিজিবি’র মাদকবিরোধী অভিযান দেশের সর্বস্তরের জনসাধারণের কাছে বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছে। জীবন বাজি রেখে বিজিবি’র টহল দল সীমান্তে টহল দিয়ে যাচ্ছে।’








