২০১৭ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার মধ্য মেড্ডা গ্রামের মাদ্রাসা ছাত্র দেলোয়ার হোসেন হৃদয়কে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এ মামলায় আদালতে উপস্থাপন করা প্রতিবেদনে (চার্জশিট) সিআইডি কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এর প্রতিবাদে শনিবার (৬ অক্টোবর) মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন স্থানীয়রা। সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সামনে এই মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়।
মানববন্ধনে হত্যাকাণ্ডের শিকার দেলোয়ারের স্বজন এবং এলাকাবাসী সঠিক তদন্ত ও বিচারের দাবিতে বিভিন্ন ব্যানার ও পোস্টার প্রদর্শন করেন।
নিহতের বড়ভাই জাকির হোসেন, ছোটভাই ইয়াসমিন হোসেন অভিযোগ করেন, মোবাইলফোন কেনাবেচা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে গত বছরের ৫ নভেম্বরে দেলোয়ারকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। দেলোয়ার জামিয়া ইউনুছিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ছিল। এ ঘটনার পরেরদিন নিহতের বড়ভাই জাকির হোসেন বাদী হয়ে মেড্ডা এলাকার যুবক রিফাত এবং সিগবাতুল্লাসহ ২৯ জনের নাম উল্লেখ করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে মামলাটি ২০১৭ সালের ১৪ নভেম্বর মামলাটি সিআইডিতে হস্তান্তর হয়। এর তদন্ত শুরু করেন আলমগীর হোসেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে চলতি বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর সিআইডি কর্মকর্তা আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন। এতে তিনি বাদীর নাম-জাকির হোসেন ও পিতা-ইউনুছ মিয়া এবং গ্রাম-মেড্ডার স্থলে লিখেন, বাদী-হাজী মো. ইব্রাহিম, পিতা-মৃত মনসুর আলী এবং গ্রামের নাম লিখেন মোহল্লা নবীনগর।
প্রতিবেদনে এ ধরনের মিথ্যা তথ্য উপস্থাপনের ঘটনায় ‘তদন্ত’ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বাদী জাকির হোসেন। তিনি বলেন, সিআইডি কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন আসামিদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে এ তথ্য উপস্থাপন করেছেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, তদন্তের সময় তাদের কারো স্বাক্ষ্য বা বক্তব্য না নিয়ে তিনি আদালতে মনগড়া প্রতিবেদন দিয়েছেন। এ ঘটনায় বাদী পক্ষ তদন্ত প্রতিবেদন প্রত্যাখান করে পুনরায় নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন।
পাশাপাশি সিআইডি কর্মকর্তা আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তারা।








