ফেনীতে নবনির্মিত জেলা কারাগার উদ্বোধন

ফেনী প্রতিনিধি
০১ নভেম্বর ২০১৮, ১৩:০৯আপডেট : ০১ নভেম্বর ২০১৮, ১৩:১৩

ফেনীর নতুন জেলা কারাগার ফেনীতে নবনির্মিত জেলা কারাগারের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার (১ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই কারাগারের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।

এ উপলক্ষে ফেনী জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে সকাল ১০টায় উপস্থিত ছিলেন— ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারী, জেলা প্রশাসক মো. ওয়াহিদুজ্জামান, পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম সরকার, সিভিল সার্জন ডা. হাসান শাহরিয়ার কবির, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সুজন চৌধুরী, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিকেএম এনামুল করিম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আক্তারুর নেচা শিউলী প্রমুখ।

ফেনীর নতুন জেলা কারাগার ফেনী শহরতলীর রানীরহাট এলাকায় সাড়ে সাত একর জমির ওপর এই নতুন কারাগার নির্মাণ করা হয়েছে। কারাগারটিতে আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। তবে কবে থেকে কারাগারটিতে কয়েদিদের রাখা হবে সে বিষয়টি এখনও জানা যায়নি।

গণপূর্ত অধিদফতর ফেনীর নির্বাহী প্রকৌশলী কাজী মো. বদরুজ্জামান জানান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জেলা কারাগার নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় শহরের অদূরে রানীরহাট এলাকায় ১৯৯৬ সালে সোনাপুর ও মালিপুর মৌজার সাড়ে সাত একর জায়গায় নতুন জেলা কারাগার নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ৩৭ কোটি টাকা ব্যয়ে এ বছর কারাগারের ১৬টি ভবন নির্মাণ শেষ হয়েছে।

কারাগারের ফটক বদরুজ্জামান জানান, নবনির্মিত কারাগারটি সম্পূর্ণ সিসিটিভি ক্যামেরার আওতাভুক্ত থাকবে। ৩৫০ জন বন্দি ধারণক্ষমতা সম্পন্ন অত্যাধুনিক এ কারাগারে বন্দি ও কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য থাকছে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা। এর মধ্যে রয়েছে— একটি দ্বিতল বিশিষ্ট আধুনিক হাসপাতাল, বন্দিদের কাউন্সিলিং করা এবং তাদের মাঝে কর্মস্পৃহা সৃষ্টি ও কর্মসংস্থানের জন্য বিভিন্ন ওয়ার্ক শেড, খেলার মাঠ, পুকুর, উদ্যান, স্টাফ কোয়ার্টারসহ বিভিন্ন স্থাপনা রাখা হয়েছে। অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত এই কারাগারে বন্দিদের জীবনকে নিরাপদ, স্বস্তিদায়ক ও পরিশুদ্ধ জীবন গড়তে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করেন গণপূর্ত অধিদফতর ফেনীর নির্বাহী প্রকৌশলী কাজী মো. বদরুজ্জামান। কারাগারটিতে পুরুষ ব্যারাক, মহিলা ব্যারাক, কারারক্ষী ব্যারাক, হাসপাতাল, ওয়ার্কসিটসহ বিভিন্ন কর্মকর্তাদের বাসভবন নির্মিত হয়েছে।

জেলা কারাগারের ভেতরের একটি ফটক জেলা কারাগার সূত্রে জানা যায়, ১৯১৫ সালে শহরের মাস্টার পাড়ায় মাত্র দেড় একর জায়গার ওপর প্রথমে উপ-কারাগার (সাব-জেল) হিসেবে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। যার বন্দিধারণ ক্ষমতা ছিল দুজন নারী ও ১৭০ জন পুরুষ মিলে মোট ১৭২ জন। ১৯৯৮ সালে উপ-কারাগার থেকে এটি জেলা কারাগারে উন্নীত হয়। তবে জেলা কারাগারে উন্নীত হলেও কোনও সুযোগ-সুবিধা ছিল না সেখানে। শত বছরের পুরনো অবকাঠামো আর অপ্রতুল জায়গায় ধারণ ক্ষমতার তিন-চারগুণ বেশি বন্দি নিয়ে কারা কর্তৃপক্ষকে প্রতিনিয়তই চরম ঝামেলা পোহাতে হয়েছে। গাদাগাদি করে শোয়া, থাকা-খাওয়া, গোসলসেহ নানা সমস্যায় বন্দিদের দুর্ভোগের শেষ ছিলো না ।

জেলা কারা সুপার মো. রফিকুল কাদের বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘নতুন কারাগারে স্থানান্তর হলে বন্দিদের দুর্ভোগ লাঘব হবে।’

/আইএ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম