আগামী ৮ নভেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন। এরই মধ্যে সব দলের মনোয়ন প্রত্যাশী ও তাদের সমর্থকরা মাঠে নেমে পড়েছেন। দলীয় হাই কমান্ডের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য নির্বাচনি এলাকায় প্রার্থীদের তৎপরতা বেড়েছে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের পক্ষে জোর তৎপরতা চালাচ্ছেন আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি ও বিএনপিসহ বিভিন্ন দলের মাঠ পর্যায়ের কর্মী সমর্থকরা।
ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের বর্তমান এমপি সাইমুম সরওয়ার কমল ছাড়াও এ আসনে নৌকা পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছে অর্ধ ডজন প্রার্থী। তারা মাঠেও চষে বেড়াচ্ছেন। বিএনপিতে মাঠ দখলে রেখেছেন সাবেক এমমি ও কেন্দ্রীয় বিএনপির মৎস্যজীবী বিষয়ক সম্পাদক লুৎফুর রহমান কাজল। পাশাপাশি মাঠে আছেন জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি অধ্যাপক আজিজুর রহমান। আগের মতো এবার বিএনপি জোট ফাঁকা মাঠ নাও পেতে পারে। এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী লড়ারও আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
পর্যটন নগরী কক্সবাজারের চারটি সংসদীয় আসনের মধ্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কক্সবাজার-৩ সদর রামু-আসনটি। জেলা প্রশাসক, পুলিশ অফিস, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, রাড়ার, বিজিবির সেক্টর, সেনানিবাস, ৪৫০ হোটেল-মোটেলসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ অফিস এখানেই। বছরে কোটি কোটি টাকার সরকারি বরাদ্দ ও মেগা উন্নয়ন প্রকল্প এই আসনেই। বিশেষ করে পর্যটন শিল্প নির্ভর করে এই আসনটি ঘিরে। ফলে যেকোনও রাজনৈতিক দলের মূলত টার্গেট থাকে কক্সবাজার-৩ আসনের ওপর। তাই এ আসনটি পেতে সব দলীয় প্রার্থী মরিয়া থাকে।
কক্সবাজার-৩ রামু-সদর আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে আছেন বর্তমান এমপি সাইমুম সরওয়ার কমল, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান চেয়ারম্যান, কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) চেয়ারম্যান লে. কর্নেল (অব.) ফোরকান আহমদ, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মাহবুবুল হক মুকুল, জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী কানিজ ফাতেমা আহমেদ, কক্সবাজার পৌর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নজিবুল ইসলাম, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নাজনীন সরওয়ার কাবেরী এবং বর্তমান জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি ইশতিয়াক আহমেদ জয়। মতাদর্শ একদলের হলেও এরমধ্যে বর্তমান সংসদ সদস্য কমলের পরিবারে দু’জন মনোনয়ন প্রত্যাশী। তার মধ্যে বর্তমান সংসদ সদস্য ও তার বোন জেলা আ. লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নাজনীন সরওয়ার কাবেরীও মনোনয়নে আশাবাদী। আর এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে বিএনপি দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য এবং বিএনপির একমাত্র প্রার্থী লুৎফর রহমান কাজল আসনটি পেতে দলীয় কর্মসূচির মধ্য দিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
এ আসনে সবচেয়ে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনে জয়ী এবং কেন্দ্রীয় বিএনপির মৎস্য বিষয়ক সম্পাদক লুৎফর রহমান কাজল। বিএনপি নেতা কাজল নিয়মিত মাঠ পর্যায়ে যোগাযোগ রাখছেন। ভোটারদের সঙ্গে তার ভালো সম্পর্ক রয়েছে। এছাড়া বিএনপির পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত তিনিই একমাত্র প্রার্থী বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার জেলা বিনেপির সভাপতি শাহজাহান চৌধুরী।
তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমরা নির্বাচনের লাইনে রয়েছি। আমরা সরকারের নানা বাধার মাঝেও জনগণের পাশে থেকে কাজ করে যাচ্ছি। তবে সুষ্ঠু নির্বাচন হলে বিএনপির জয় নিশ্চিত।’
কক্সবাজারের রাজনীতিতে জামায়াতের যথেষ্ট প্রভাব থাকে। ফলে বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ নির্বাচনে গেলে জামায়াত ভোট ব্যাংক হিসাব করে এ আসনটি চাইতে পারে। তবে জাতীয় নির্বাচনের ব্যাপারে জামায়াতের কোনও তৎপরতা চোখে পড়েনি।
কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ তারেক ও মফিজুর রহমান মফিজের নাম জাতীয় পাটির প্রার্থী হিসেবে শোনা যাচ্ছে। তারা দু’জনই জাপা চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদের আস্থাভাজন। তাই এ দুজনের মধ্যে যে কোন এক জন হতে পারেন জাতীয় পাটির প্রার্থী।
এ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল এখন এলাকায় সব চেয়ে বেশি সময় দিচ্ছেন। যাচ্ছেন নানা অনুষ্ঠানে। আর সেখানেই আগামী নির্বাচনের জন্য মানুষের মন জয় করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক মুজিবুর রহমান চেয়ারম্যান বলেন, ‘এ আসনে তিনি ও প্রার্থী হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, যেকোনও ভাবে আমরা এ আসনটি আমাদের নেত্রীকে উপহার দিতে চাই।’
কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সিরাজুল মোস্তফা বলেন, ‘বর্তমার সরকার কক্সবাজারকে যা দিয়েছে স্বাধীনতার পর আর কোনও সরকার এত কিছু দিতে পারেনি। আর্ন্তজাতিক বিমান বন্দর, সেনানিবাস, মেরিন ড্রাইভ সড়ক, রেললাইন, মাতার বাড়ির কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ সহ হাজার হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন করছে। তাই এ উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে জনগণ আওয়ামী লীগ কেউ ভোট দেবে।








