আজ ২ ডিসেম্বর, পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তির ২১ বছর পূর্তি। ১৯৯৭ সালের এইদিনে তৎকালীন সরকারের কাছে সন্তু লারমা’র নেতৃত্বে অস্ত্র সমর্পণের মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসে শান্তি বাহিনী। চুক্তির ৭২টি ধারার এখনও পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন হয়নি। চুক্তির এসব ধারা সম্পর্কে কোনও ধারণা নেই সাধারণ মানুষের।
সরকারের দাবি, চুক্তির দুই-তৃতীয়াংশ ধারা বাস্তবায়ন হয়েছে। আর জনসংহতি সমিতির দাবি, চুক্তির এক-তৃতীয়াংশ বাস্তবায়ন হয়েছে। এই নিয়ে উভয়পক্ষই মাঝেমধ্যে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে। চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের দাবিতে পার্বাত্য এলাকায় বিশাল সমাবেশও করেছে জনসংহতি সমিতি। তবে যাদের নিয়ে এই সমাবেশ করা হয়েছে তারা জানে না চুক্তিতে কী আছে। কোনও পক্ষই এ বিষয়ে জনসাধারণকে খোলাসা করে কিছুই বলেনি।
রাঙামাটির উন্নয়নকর্মী ললিত সি চাকমা বলেন, ‘চুক্তি সই হাওয়ার পরপরই সেই সময় বিরোধী দলের তরফ থেকে এক ধরনের নীতিবাচক প্রচারণা ছিল। সেগুলো মানুষের মনে বিভ্রান্তি তৈরি করেছিল। চুক্তি বাস্তয়নের ক্ষেত্রে সরকারি দল ও চুক্তি স্বাক্ষরকারী দলের তরফ থেকে চুক্তির ধারা বাস্তবায়িত হয়েছে বা হয়নি সেগুলো নিয়ে নানা প্রচার প্রচারণা ছিল। যার করাণে মনে হচ্ছে সাধারণ মানুষের কাছে চুক্তিতে কী আছে বা কী নেই এগুলো জানার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছে।’
অজ্ঞতার কারণে নানান জায়গায় সংঘাতের ঘটনাও ঘটছে বলে জানান এই উন্নয়ন কর্মী।
রাঙামাটি প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও প্রবীণ সাংবাদিক সুনীল কান্তি দে বলেন, ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি সম্পর্কে, পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের কাছে কোনও ধ্যান ধারণা ভালো না। এজন্য প্রথম দায়ী হলো চুক্তি সম্পাদনকারী উভয়পক্ষ। এই বিষয়গুলো জানার বা জানানোর জন্য রাজনৈতিক দলগুলোতে বড় ধরনের ব্যর্থতা রয়েছে গেছে।’
সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য ফিরোজা বেগম চিনু বলেন, ‘চুক্তি যেটা হয়েছে ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আন্তরিকতার ফলে এবং সেই চুক্তিটা অনেকটাই প্রকশ্যে হয়েছিল। তৎকালীন বিএনপি বলেছিল, এই চুক্তি কালো চুক্তি। যদি এই চুক্তি বাস্তবায়ন হয় তাহলে এখন থেকে বাঙালিদের চলে যেতে হবে এবং সব বাঙালিদের ভোটের অধিকার থাকবে না। এসব কথা হলে সেই সময় সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্ত সৃষ্টি করে কিন্তু চুক্তির ২১ বছর পূর্তিতের এমন ঘটনা ঘটেনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যাদের সঙ্গে চুক্তি করেছি তারা যদি আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করতেন দুইপক্ষ এক মঞ্চে এসে যদি চুক্তির বিষয়ে সাধারণ মানুষকে বোঝানো যেত। তাহলে সাধারণ মানুষের মধ্যে চুক্তি নিয়ে যে দ্বিধা রয়েছে তা কেটে যেত বলে মনে করেন তিনি।
এদিকে, চুক্তি স্বাক্ষরকারী দল পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতিকে এই বিষয়ে কথা বলতে চেষ্টা করা হলেও তাদের মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
চুক্তির বিষয়ে ধারণা না থাকার কারণে নানা সময়ে নানা গুজবে পার্বত্যাঞ্চলে পাহাড়ি-বাঙালি সংঘাত লেগে যায়। চুক্তি সম্পাদনকারী উভয়পক্ষই যদি আন্তরিকভাবে সাধারণ মানুষের কাছে চুক্তির বিষয়টি উপস্থাপন করতে পারে, তাহলে পাহাড়ে যেসব সাম্প্রদায়িক ঘটনা ঘটে, সেগুলো কমে আসতো বলে মনে করেন এখানকার জনগণ।








