পুলিশের উপস্থিতিতে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা চাঁদপুর-২ আসনের বিএনপি প্রার্থী ড. জালাল উদ্দিনের বাড়িতে হামলা চালিয়েছে এবং নেতাকর্মীদের মারধর করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসময় তার বাড়িতে থাকা মেয়েদেরকে লাঞ্ছিত করে বলেও তিনি দাবি করেছেন।
এদিকে, মতলব উত্তর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আহসানুল হক ফটিক, সাধারণ সম্পাদক নূরুল হক জিতু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম টিপুসহ ১২ নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার দুপুরে ড. জালাল উদ্দিনের বাড়ি থেকে তাদের আটক করা হয়।
এ ঘটনায় বিএনপি প্রার্থী বলেন, ‘পুলিশের উপস্থিতে আওয়ামী লীগের ৭০/৮০ জন আমার বাড়িতে হামলা চালিয়ে বেদম মারধর করে। ধরে নিয়ে যায় আমার বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীকে। বাড়িতে থাকা মেয়েদেরকে বিভিন্নভাবে লাঞ্ছিত করে। এটি ন্যাক্কারজনক ঘটনা। এই যদি পরিস্থিতি হয় তাহলে আমরা কীভাবে নির্বাচন করবো? আমি মাননীয় সিইসির উদ্দেশ্যে বলছি- আমার মনে হয়, নির্বাচনটা এখন আর নৌকার সঙ্গে আমার নয়। নির্বাচন হচ্ছে ধানের শীষের সঙ্গে পুলিশের।’
তিনি বলেন, ‘পরিকল্পিতভাবে একটি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে তারা আমার বাড়িতে এসে বলে আমার বাড়ির লোকজন নাকি হুন্ডা পুড়িয়েছে। আমি তাদের বলেছি, যারা পুড়িয়েছে তাদের খুঁজে বের করুন। তবে আমাদের কেউ এর সঙ্গে জড়িত নয়। আমি গণসংযোগে বের হতে চাইলেই পুলিশ ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বাধা আর হামলার শিকার হতে হচ্ছে। তারপরও আমি শেষ অবধি নির্বাচনে থাকবো। কারণে, এখানে ধানের শীষের প্রচুর ভোটার রয়েছে।’
এ বিষয়ে স্বেচ্ছাসেবক লীগ পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব বোরহান উদ্দিন ডালিম বলেন, ‘বিএনপি নেতার বাড়িতে অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে কিছু লোকজন আগে থেকেই ছিল। আমাদের লোকজন নির্বাচনি প্রচারণা শেষে ওইখান দিয়ে আসার পথে ড. জালালের সশস্ত্র ক্যাডার বাহিনী হামলা চালায়। তখন পুলিশ আমাদের উদ্ধার করে। এসময় পুলিশ তাদের কয়েকজন ক্যাডারকে আটক করে। যারা বিভিন্ন নাশকতার একাধিক মামলার আসামি।’ তাদের অভিযোগ মিথ্য ও বানোয়াট বলে দাবি করেন তিনি।
মতলব উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কবির হোসেন বলেন, মঙ্গলবার দুপুর দেড়টার দিকে আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা একটি মিছিল নিয়ে বিএনপি প্রার্থী ড. জালাল সাহেবের বাড়ির কাছ দিয়ে যাচ্ছিল। এসময় তার বাড়ির ৩০০ গজ দূরে থাকা আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বিএনপি প্রার্থীর বাড়িতে থাকা নেতাকর্মীরা লাঠিসোটা নিয়ে ধাওয়া দেয়। এক পর্যায়ে বিএনপি নেতাকর্মীরা একটি মোটরসাকেল জ্বালিয়ে দেয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে মতলব উত্তর উপজেলা বিএনপির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ ১২ জনকে আটক করি। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।








