কুসিকের অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনায় কৃষিজমিতে জলাবদ্ধতা

মাসুদ আলম, কুমিল্লা
০৪ মার্চ ২০১৯, ১০:০২আপডেট : ০৪ মার্চ ২০১৯, ১০:২৯





কুসিকের অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনার জন্য কৃষিজমিতে সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতার নগরবাসীর জন্য উন্নত ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতে কাজ করছে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন (কুসিক) কর্তৃপক্ষ। তবে যথাযথ পরিকল্পনার অভাবে এই ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনায় শত শত হেক্টর কৃষিজমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টিসহ দূষণ ও রোগ-বালাই ছড়িয়ে পড়ার অভিযোগ উঠেছে। সিটির আশপাশের কৃষকদের অভিযোগ, মেগা প্রকল্পের আওতায় কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের ২৩ এবং ২৪নং ওয়ার্ডসহ দক্ষিণের ৯টি ওয়ার্ডের নবনির্মিত ড্রেনগুলোর সঙ্গে খাল বা নদীর কোনও সংযোগ সৃষ্টি করা হয়নি। বরং বিভিন্ন আবাদি কৃষিজমি, খোলা মাঠ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে এসে ড্রেনগুলোর কাজ শেষ হয়ে গেছে। এতে করে ওইসব ড্রেনের নোংরা ও দূষিত পানি কৃষিজমিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি করছে।

এছাড়া ড্রেনের পানিতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে কলেরা, আমাশয়, টাইফয়েড, ডায়রিয়ার মতো নানা ধরনের জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন স্থানীয়রা। কৃষিজমি ছাড়াও বসতবাড়ি ও স্কুলসহ নানা প্রতিষ্ঠান এই ড্রেনের পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কৃষকরা বলছেন, পরিকল্পিতভাবে ড্রেনেজ ব্যবস্থা নিশ্চিত করলে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হতো না।

তবে সিটি মেয়র মনিরুল হক সাক্কু বলেন, ‘কৃষিজমিতে ড্রেনের কাজ শেষ হয়নি। মামলাসহ নানা সমস্যার কারণে কাজ আটকে আছে। দ্রুত এসব সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চলছে।’

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বিজিবি কুমিল্লা সেক্টর থেকে শুরু হয়ে মূল ড্রেনটি নন্দনপুর বিশ্বরোডের কাছে এসে শেষ হয়েছে। এই ড্রেনের শেষে পানি সরবরাহ বা নিষ্কাশনের জন্য কোনও ব্যবস্থা নেই। আর মূল এই ড্রেনের সঙ্গে বিভিন্ন পাড়া মহল্লা থেকে শাখা ড্রেন এসে মিলিত হয়েছে। প্রায় আড়াই কিলোমিটারের এই মূল ড্রেনের সঙ্গে বিভিন্ন শাখা ড্রেনের পানিগুলো গন্ধামতি, চাঙ্গিনী, বাতাবাড়িয়া, রামপুরসহ বিভিন্ন এলাকার মানুষের কৃষিজমি, বসতবাড়ি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশে গিয়ে পড়ছে।

২৩ ও ২৪ নং ওয়ার্ডের মূল ড্রেনটি বাতাবাড়িয়া স্কুলের সামনে শেষ হলেও মাত্র তিনশ’ গজ দূরেই ঘুঙ্ঘাইঝুড়ি খাল ছিল। ড্রেনটির সঙ্গে এই খালের সংযোগ করে দিলে কোনও সমস্যা থাকতো না।

এছাড়া, বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (বার্ড), বিজিবি’র সেক্টরের সদর দফতর, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, সেনানিবাসের একাংশ, ক্যাডেট কলেজ, শালবনবিহার, বৌদ্ধবিহার জাদুঘরসহ ২৩ এবং ২৪নং ওয়ার্ডে সরকারি-বেসরকারি অন্তত ৩০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। কুসিকের এই অপরিকল্পিত ড্রেনেজ সমস্যার সুষ্ঠু সমাধান না হলে ওইসব এলাকার পরিবেশ দূষিত হয়ে উঠবে।

নন্দনপুরের আবুল হাশেম নামে এক কৃষক বলেন, ‘সিটি করপোরেশনের ড্রেনের মাধ্যমে শহরের ময়লা ও নোংরা পানি আমাদের ফসলি জমিতে এসে জমা হচ্ছে। এইসব দূষিত পানি আমাদের জমিতে ঢুকে পড়ায় ফসল হচ্ছে না। মাঠে নামলেই নোংরা ও দূষিত কালো পানির কারণে শরীরে চুলকাতে থাকে। আমাদের দাবি ড্রেনের পানি কৃষিজমিতে না দিয়ে ঘুঙ্ঘাইঝুড়ি খালে নেওয়া হোক।’

অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে ছড়াচ্ছে দূষণ ও রোগ-বালাই মো. আইউব আলী, মো. লুৎফুর রহমান, জাহিদ হোসেন মিঠু, মো. আবুল কালামসহ একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, সাধারণ মানুষের ফসলি জমি, বাড়ি, ও বাতাবাড়িয়া স্কুলসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সামনে ড্রেনের পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ফলে ওইসব এলাকায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। ময়লা ও বিষাক্ত পানিতে কৃষকরা নানা চর্মরোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।

তারা আরও বলেন, কুমিল্লা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি এলাকা। এখানে অপরিকল্পিতভাবে ড্রেন নির্মাণ করায় আগামীতে জলাবদ্ধতার আশংকা রয়েছে। তাদের দাবি মূল ড্রেনের সঙ্গে সকল শাখা ড্রেনের সংযোগ নিশ্চিত করে মূল ড্রেনকে ঘুঙ্ঘাইঝুড়ি খালের সঙ্গে যুক্ত করা হোক।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন কুমিল্লার সভাপতি ডা. মোসলেহ উদ্দিন আহমেদের বলেন, ড্রেনের নোংরা ও দূষিত পানির কারণে ওই এলাকাগুলোর কৃষকরা অত্যন্ত দুর্যোগপূর্ণ অবস্থায় রয়েছেন। কারণ আমাদের শহরের ব্যবহৃত সকল দূষিত পানি কৃষিজমিতে প্রবাহিত হচ্ছে। সিটি করপোরেশনের দক্ষিণের এলাকা ব্যতীত পয়ঃনিষ্কাশনের পানি সরে যাওয়ার কোনও সুযোগ না থাকায় ওই অঞ্চলকে রিসাইক্লিন জোন হিসেবে বিবেচনা করে কাজ করা দরকার। রিসাইক্লিন প্রজেক্ট তৈরি করে অন্ততপক্ষে ওই এলাকাগুলোর কৃষিজমি রক্ষা করা সম্ভব হবে বলে তিনি মনে করেন।

কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মনিরুল হক সাক্কু বলেন, ‘জমির পানি যেন খালে চলে যায় সেজন্য মাস্টারপ্লান করেই ড্রেনের কাজ চলছে। পর্যায়ক্রমে তা সম্পন্ন হবে। এছাড়া নন্দনপুরের শেষ প্রান্ত থেকে ড্রেনটিকে বাড়িয়ে ঘুঙ্ঘাইঝুড়ি খালে ফেলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তা একই কাজের সঙ্গে বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চলছে।’

মেয়র আরও বলেন, ‘ড্রেন নির্মাণ নিয়ে ২৪ নং ওয়ার্ডের আবদুল জলিল নামে এক ব্যাক্তি আমিসহ সিটি করপোরেশনের ৭ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। এসব সমস্যার কারণে অনেক জায়গায় ড্রেনের নির্মাণ কাজ করা যাচ্ছে না। তবে দ্রুত সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চলছে।’

/টিটি/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
অতিরিক্ত আইজিপি হলেন ৫ ডিআইজি
অতিরিক্ত আইজিপি হলেন ৫ ডিআইজি
পুষ্টিগুণে ভরপুর পাঁচমিশালি সবজি ঘণ্ট
পুষ্টিগুণে ভরপুর পাঁচমিশালি সবজি ঘণ্ট
একদিনে হামে আরও ৪ মৃত্যু
একদিনে হামে আরও ৪ মৃত্যু
ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্নে মার্কিন চাপ মানছে না ওমান
ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্নে মার্কিন চাপ মানছে না ওমান
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী