নিউজিল্যান্ডে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত চাঁদপুরের মতলবের মোজাম্মেল হক সেলিমের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার জোহর নামাজের পর জানাজা শেষে মোজাম্মেলের মরদেহ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। নিউজিল্যান্ডের মসজিদে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত মোজাম্মেলের মরদেহ নিজ বাড়ি মতলব দক্ষিণ উপজেলার খাদেরগাঁও ইউনিয়নের হূরমহিষা গ্রামে পৌঁছালে স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পরে।
মোজাম্মেল চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার খাদের গাঁও ইউনিয়নের হুরমাইশা গ্রামের মৃত হাবিব উল্লাহ মিয়াজীর ছেলে। তার মায়ের নাম জামিলা খাতুন (৭০)। পাঁচ ভাই-বোনের মধ্যে মোজাম্মেল হক সেলিম সবার ছোট ছিলেন। ২০০১ সালে তার বাবা হাবিব উল্লাহ মিয়াজী মারা যান।
ঢাকা থেকে বৃহস্পতিবার ভোরে মোজাম্মেলের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছলে সেখানে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য সৃষ্টি হয়। এ সময় ছেলের মরদেহ জড়িয়ে ধরে আহাজারি করতে থাকেন তার বৃদ্ধ মা এবং ভাই-বোনেরা।
মোজাম্মেলের জানাজা ও দাফনের সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাহিদুল ইসলাম ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সৈয়দ মনজুর হোসেন রিপন মীরসহ অন্য নেতারা।
মোজাম্মেলের মরদেহ নিউজিল্যান্ড থেকে আনতে সহযোগিতা করায় সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছে তার স্বজনরা।
মোজাম্মেলের স্বজরা জানান, সে বরাবরই ভালো রেজাল্ট করেছে। মোজাম্মেল ঢাকা মার্কস ডেন্টাল মেডিক্যাল হাসপাতাল থেকে ‘বিএসসি ইন ডেন্টিস্ট’ কোর্স শেষ করেন। পরে উচ্চতর শিক্ষা নেওয়ার জন্য মতলব দক্ষিণ উপজেলার নারায়ণপুর অগ্রণী ব্যাংকের শাখা থেকে ২০ লাখ টাকা ঋণ করে ২০১৫ সালে নিউজিল্যান্ডে যান। মোজাম্মেল ক্রাইস্টচার্চ শহরের একটি মেডিক্যাল কলেজে অধ্যয়নের পাশাপাশি একটি কোম্পানিতে চাকরি করতো। বিদেশে পড়ালেখা করার জন্য তাকে বিশ লাখ টাকা ব্যাংক লোন নিতে হয়েছে, যা পরিশোধ হয়নি। এই লোনের টাকা মওকুফ করে দেওয়ার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন তার স্বজনরা।
তার মা জমিলা খাতুন বলেন, ‘আমার ছেলেরে উচ্চ শিক্ষার জন্য ঋণ করে বিদেশে পাঠিয়েছিলাম। দেশে এসে গরিব মানুষের সেবা করবে এ আশায়। এখন সে লাশ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। হে আল্লাহ আমি এখন কি করবো।
গত ১৫ মার্চ শুক্রবার নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ শহরের আল নূর মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে গিয়ে সন্ত্রাসী হামলায় তিনিসহ ৫০ জন নিহত হন। পরে তার লাশ আনতে নিউজিল্যান্ডে যান তার মেঝ ভাই শাহাদাত হোসেন।








