নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় ফের ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচনে ভোটকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের লোকজনের বিরুদ্ধে ছয় সন্তানের জননীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সোমবার বেলা ৩টা ৫০ মিনিটে নির্যাতিতার স্বামী ৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৪ জনের বিরুদ্ধে চরজব্বর থানায় মামলা করেছেন। মামলার দুই আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
রবিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার চরজব্বর ইউনিয়নের উত্তর বাগ্যা গ্রামের রুহুল আমিনের মৎস্য খামারের কলাবাগানে এ ঘটনা ঘটে। পরে রাত সাড়ে ১২টার দিকে আহত অবস্থায় নির্যাতিতাকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
চরজব্বর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সাহেদ উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘খবর পেয়েই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। মামলা দায়েরের পর পুলিশ দুইজনকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলো চরজব্বার ইউনিয়নের উত্তর চরবাগ্যা গ্রামের নূর আলমের ছেলে ইউসুফ মাঝি (৩৫) ও একই গ্রামের আবদুল খালেকের ছেলে আবুল বাশার (৩০)।’ তিনি তদন্তের স্বার্থে মামলার অন্য আসামিদের নাম প্রকাশে রাজি হননি।
নির্যাতিতা জানান, ৩১ মার্চ সুবর্ণচর উপজেলায় ভাইস চেয়ারম্যান পদে ভোট চলছিল। তিনি ও তার স্বামী চশমা প্রতীকের প্রার্থী তাজউদ্দিন বাবরকে ভোট দেন। সন্ধ্যায় তিনি ও তার স্বামী মোটরসাইকেলে করে বাগ্যা গ্রামে নিজ বাড়িতে ফেরার পথে তালা প্রতীকের প্রার্থী এবং নির্বাচিত ভাইস চেয়ারম্যান ফরহাদ হোসেন বাহারের সমর্থক ইউসুফ মাঝির নেতৃত্বে ১০-১২ জন তাদের মোটরসাইকেল থেকে নামিয়ে মারধর করে। পরে তাদের উত্তর বাগ্যা গ্রামের রুহুল আমিনের মৎস্য খামারে নিয়ে যায়। সেখান থেকে তাকে খামারের পাশে কলাবাগানে নিয়ে বেচু মাঝি, বজলু ও আবুল বাসার মারধর ও ধর্ষণ করে। এ সময় তার স্বামীর চিৎকারে লোকজন এসে তাদের উদ্ধার করে। রাতেই তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দীপক জ্যোতি খিসা হাসপাতালে নির্যাতিতাকে দেখতে যান এবং ভিকটিমের কথা শোনেন। পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘নির্যাতিতার অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
নবনির্বাচিত ভাইস চেয়ারম্যান ফরহাদ হোসেন বাহার বলেন, ‘যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে তারা কেউ আমার সমর্থক ছিল না। আমি চাই অপরাধী যেই হোক, তারা যেন শাস্তি পায়।’
নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক সৈয়দ মহিউদ্দিন আবদুল আজিম জানান, একজন নারী ও তার স্বামীকে রাতে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ওই নারীকে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে তাকে জানিয়েছেন। তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। আজ তার ডাক্তারি পরীক্ষা করা হবে। তার স্বামীর শরীরেও আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। সেও হাসপাতালে ভর্তি আছে।
এদিকে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সুবর্ণচর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ খায়রুল আনাম সেলিম জানান, ২০০১ সাল থেকে ভিকটিমের পরিবার ও অভিযুক্তদের সঙ্গে জমি সংক্রান্ত বিরোধ রয়েছে। ধর্ষণের বিষয়টি পুলিশ খতিয়ে দেখবে। ধর্ষণের অভিযোগ সত্য হলে দোষী কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।







