ফেনী সদরের পরাজিত চেয়ারম্যান প্রার্থী আজাহারুল হক আরজুকে পাঁচ মামলায় ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি হিসেবে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। সোমবার বিকাল সাড়ে তিনটায় তাকে গ্রেফতার করে ফেনী সদর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তানিয়া ইসলামের আদালতে আনা হলে বিচারক তাকে জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
ফেনী মডেল থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ‘৫ মামলার গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি আজহারুল হক আরজু বাড়িতে অবস্থান করছে এই তথ্যের ভিত্তিতে রবিবার রাতে শহরতলির আমতলী এলাকার থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।’
এলাকাবাসী জানান, আজাহারুল হক আরজু বিলুপ্ত জয়নাল হাজারির স্টিয়ারিং বাহিনীর ক্যাপ্টেন-ওয়ান। ১৯৯৩- ২০০১ সাল পর্যন্ত তিনি এই পদে ছিলে। তখন ফেনীর মানুষের কাছে তিনি মূর্তিমান আতঙ্ক ছিলেন। ওই সময় তিনি হাজারীর আশীর্বাদে ফেনী সদরের ধর্মপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ছিল। তার বিরুদ্ধে আলোচিত যুবদল নেতা নাসির, ছাত্রদল নেতা তুষার, ঠিকাদার জলিল হত্যাসহ খুন রাহাজানির অভিযোগে প্রায় দুই ডজন মামলা হয়েছিল। ২০০১ সালে যৌথবাহিনীর অভিযানকালে তিনিও জয়নাল হাজারীর সঙ্গে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান। ২০০৮ সালে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এলে তিনিও তার গডফাদারের সঙ্গে দেশে ফিরে আসেন। তারপর একে একে তার সব মামলা রাজনৈতিক বিবেচনায় প্রত্যাহার হয়ে যায়।
গতকাল রবিবার অনুষ্ঠিত উপজেলা নির্বাচনে আরজু পাঁচটি মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি হিসাবে হুলিয়া নিয়ে সদরের দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুর রহমান বিকমের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
নির্বাচনে আবদুর রহমান বিকম ৪১ হাজার ৭৬৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আরজু (আনারস) ৫ হাজার ২৪০ ভোট পান।








