প্রতিবেশীর স্ত্রীর সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের জেরেই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরের চাপরতলা গ্রামের জুয়েলকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। বুধবার (১০ এপ্রিল) দুপুরে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। এ সময় হত্যাকাণ্ডে জড়িত জুয়েলের প্রতিবেশী হারুন ও তার স্ত্রীকে সাংবাদিকদের সামনে হাজির করা হয়।
হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আলমগীর হোসেন জানান, চাপরতলা গ্রামের হারুন ও জুয়েল পরস্পরের প্রতিবেশী এবং বন্ধু ছিলেন। হারুন পেশায় ফেরিওয়ালা। তার বন্ধু জুয়েল ডিশ ক্যাবল লাইনের কাজ করতেন। একপর্যায়ে হারুনের স্ত্রীর সঙ্গে জুয়েলের বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি টের পেয়ে হারুন জুয়েলকে সাবধান করার পাশাপাশি নিজ স্ত্রীর পরিবারকে জানান। তবে কোনও সমাধান না হওয়ায় জুয়েলকে হত্যার পরিকল্পনা করেন হারুন। আর এ কাজে হারুনের স্ত্রী এবং আরও পাঁচজন সহায়তা করেন।
হত্যার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ১৪ মার্চ রাত ১০টার দিকে হারুন তার স্ত্রীর মাধ্যমে জুয়েলকে ডেকে আনেন। পরে হারুন তার স্ত্রীসহ অন্য আরও পাঁচ সহযোগীকে নিয়ে জুয়েলকে মাথায় আঘাত এবং গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। হত্যার পর জুয়েলের মরদেহ একটি ডোবায় ফেলে দেওয়া হয়।
ঘটনার ছয়দিন পর ১৯ মার্চ জুয়েলের বস্তাবন্দি মরেদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনার পর ওইদিন রাতে নিহত জুয়েলের চাচা আব্দুল হক ছোট্ট মিয়া বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে নাসিরনগর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
পরে পুলিশ মামলাটির তদন্ত শুরু করে আনোয়ারা থেকে ৮ এপ্রিল ভোরে হারুন মিয়াকে গ্রেফতার করে। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী হারুনের স্ত্রীকেও গ্রেফতার করা হয়। হারুন মিয়া ও আসমা খাতুন পুলিশের কাছে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। আসামিদের ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি নেওয়া হবে বলে সাংবাদিকদের জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আলমগীর হোসেন।








