ঘূর্ণিঝড় ফণীর তাণ্ডবে চাঁদপুরের পাঁচ উপজেলায় দুই শতাধিক ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। শনিবার (৪ মে) ভোররাতের দিকে এ জেলায় আঘাত হানে ফণী। এতে উপড়ে যায় শত শত গাছপালা, ক্ষতি হয় ফসলি জমি, বিধ্বস্ত হয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ বেড়িবাঁধ সংলগ্ন এলাকার বাড়ি-ঘর। তবে কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। এখনও খোলা আকাশের নিচে রয়েছে বহু পরিবার।
চাঁদপুর জেলা প্রশাসন জানায়, ঘূর্ণিঝড়ে জেলায় প্রায় দুই শতাধিক ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে চাঁদপুর সদরে ৬০টি, কচুয়ায় ১২টি, হাজীগঞ্জে ৩০টি, হাইমচরে ১২টি, মতলব উত্তরে ২০টি ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে।
চাঁদপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জামান জানান, ফণীর তাণ্ডবে সদর উপজেলার রাজরাজেশ্ব ইউনিয়ন, মতলব উত্তর, হাজীগঞ্জ এবং হাইমচরে বহু বসতঘর ভেঙে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
তিনি আরও জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর তালিকা করা হচ্ছে। তালিকা হলেই আমরা তাদের সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেবো। সহায়তার মধ্যে রয়েছে নগদ অর্থ ও টিন। এ ছাড়া, আমরা ইতোমধ্যেই আগাম প্রস্তুতি হিসেবে চাঁদপুর সদরসহ ৪ উপজেলায় নির্বাহী কর্মকতার মাধ্যমে ১০ টন করে চাল এবং ২৫ হাজার টাকা করে দিয়ে রেখেছি; যাতে ওইসব এলাকায় আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে আশ্রয় নেওয়া মানুষজন সহায়তা পায়।
রাজরাজেশ্বর ইউপির সচিব মিজানুর রহমান জানান, পদ্মা-মেঘনাবেষ্টিত রাজরাজেশ্বর ইউনিয়য়নে গাছপালা কম। গত রাত ৩টা ৪৫ মিনিটের পর থেকেই ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডব শুরু হয়। ঘূর্ণিঝড়টি প্রথমে আঘাত হানে ইউনিয়নের মান্দেরবাজার এলাকায়। পরে মজিদকান্দি ও শিলারচর এলাকা ঝড়ের তাণ্ডব চলে। এতে এ ইউনিয়নের ছোট-বড় শতাধিক ঘর বিধ্বস্ত হয়। এ ছাড়া, উড়ে গেছে চিরারচর আশ্রায়ণ প্রকল্পের চাল। তিনি জানান, মাইকিং করে আগেই এলাকার মানুষজনকে নিরাপদ স্থানে রাখা হয়। এজন্য হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
হানারচর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুস ছাত্তার রাঢ়ী জানান, রাত সাড়ে ৩টায় ইউনিয়নের গোবিন্দয়া ফেরিঘাট এলাকায় গাছ ভেঙে ৩টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ৪টি বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া, বেড়িবাঁধ সংলগ্ন এলাকায় অনেকের বসতঘর তছনছ হয়ে গেছে। ক্ষতির বিষয়টি আমরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করেছি।
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাণিজ ফাতেমা বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড়ে ৫০টি ঘর পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়েছে। আর বাকিগুলোর আংশিক ক্ষতি হয়েছে। প্রবল হাওয়ার কারণে নদীর ওপারে আমাদের যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবে সেখানে শুকনো খাবার দেওয়ার জন্য ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করা হচ্ছে। তাদের সার্বিক সহযোগিতা দেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে।’
মতলব উত্তর উপজেলার এখলাছপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুছাদ্দেক হোসেন মুরাদ জানান, ইউনিয়নের বোরোচর, চরউম্মেদসহ কয়েকটি চরাঞ্চলে প্রায় ৫০টির বেশি বসতঘর ভেঙে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে, চাঁদপুরে এখনও (বিকাল ৫টা পর্যন্ত) থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। বাতাসের গতি কমেনি; তাই উত্তাল রয়েছে পদ্ম ও মেঘনা নদী। এ ছাড়া, অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে বৃহস্পতিবার থেকে চাঁদপুর-ঢাকা নৌরুটে লঞ্চসহ সব নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে।







